Showing posts with label গার্মেন্টস স্টক লট. Show all posts
Showing posts with label গার্মেন্টস স্টক লট. Show all posts

Wednesday, November 12, 2014

গার্মেন্টস স্টকলট ব্যবসা : একটি লাভজনক বিনিয়োগ

গার্মেন্টস স্টকলট ব্যবসা : একটি লাভজনক বিনিয়োগ


গার্মেন্টস শিল্পে স্টক-লট হচ্ছে কোন কারনে তৈরি পোশাক ক্রেতার কাছে ঠিক মত পৌঁছে দিতে না পারলে ,গার্মেন্টসে তা স্টক হয়ে যাওয়া ।

গার্মেন্টস শিল্পে বেশ কয়েকটি কারনেই পোষাক স্টক হয়ে যায়। তন্মধ্যে শিপমেন্ট ক্যান্সেল, শিপমেন্ট ডিলে, কন্টিনিউয়াস রি-চেক, এলসি প্রব্লেম অন্যতম। কিছু কিছু বায়ার বিভিন্ন অযুহাতে শিপমেন্ট ক্যান্সেল করে, যাতে সে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কমমূল্যে পন্যগুলো ক্রয় করতে পারে। মূলত কোন পন্য স্টক হয়ে গেলে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দাম কমে যায়। এর এ সুবিধাটা বিভিন্ন মহল ভোগ করে। বর্তমানে বিদেশী বায়াররা স্টকলটের প্রতি খুব বেশি ঝুঁকে পরেছে।
স্টকলট বিভিন্ন সংখ্যার হতে পারে। একে আমরা দুভাগে ভাগ করতে পারি। শর্ট কোয়ান্টিটি স্টকলট এবং লং কোয়ান্টিটি স্টকলট। শর্ট আর লং এর মাঝে পার্থক্য নিশ্চয়ই আর ব্যাখ্যা করতে হবে না।
যাই হোক, আজকাল স্টকলট কোটি টাকার বিজনেস ।

এই খাতে বিনিয়োগ খুব লাভজনক। প্রথমত এই পন্য পঁচে না, যত্ন নিলে নষ্ট হয় না। উপরন্তু এর চাহিদা অত্যাধিক। স্টকগুলোকে আমরা আরো দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি। ব্র্যান্ডেড ও নন-ব্র্যান্ডেড। সমগ্র বিশ্বে যে ব্র্যান্ডগুলো সু-পরিচিত সেগুলোকে বলা হয় ব্র্যান্ডেড আর যেগুলো তেমন একটা পরিচিত নয় সেগুলো নন-ব্র্যান্ডেড। ব্র্যান্ডেড স্টকলট ক্রয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ আর এতে লাভও বেশি হয়।


বিশ্বব্যাপী সু-পরিচিত ব্র্যান্ডগুলো হচ্ছে :-
Gucci, Barbour, Ralph Lauren, Lacoste,  Nike, Abercrombie & Fitch, Hugo Boss, Louis Vuitton, Holister, Stareon, G Star, Levis, Diesel, Banana Republic, Converse, H&M, Aeexeek & Stareon (A&S), Fred Perry, Tommy Hilfiger, ZARA, American, Eagle, Polo Collection, Superdry, Calvin Klein (CK), Ann Harvey, MAX, Reebok, Prada, Marc Jacobs, Dior, Guess, Fendi, Versace, Valentino, Dolce & Gabbana (D&G), Wonderbra, French Connection, Sloggi, Adidas, Duck and Cover, Firetrap, Henleys, Miss Sixty, Timberland, GAP, Express, Aeropostale, Jack & Jones, Jcrew, Topman, John Hill, Lee, Nautica, Wrangler, Esprit, Vans, Brioni, George, NEXT, Element, Carbrini, AEEXEEK, Balenciaga, Armani Exchange, Miu, Miu, Givenchy, Burberry, Chanel, DKNY (Donna KarenNew York), April Evil, Australia Rivers, Bershka, Admiral,Cherokee, Collezione, Co.Jeans, Crazy 8, Kenvelo, Disney, Esmara, French Cuff, Friends 4 Ever, Golden Dream, Hello Kitty, Infinity, Jeans Club, Jules Collection, Kangaroo
L O G G, MayFair, MEXX, N.Y Tee, Mountain Ridge, NEWYEAR, NiKKi, Okay, Philadelphia, Philip Russel, PIZZA ITALIA, Pull Bear, Pro Game, Regatta, Rodi Mood, S. Oliver, Splash, St. Jhon's, Sylenger, Terranova, Tezenis, Tom Tailor, Topolino, Tuff Guys, U.S.Polo Assn., Urban Beach, US Basic, White Stag, Winbra, X-Tend, Xside, Max Mara, Bisou Bisou, Moschino, Roberto Cavalli, McQ by Alexander McQueen, Vera Wang, Oscar de la Renta, Juicy Couture, Elie Saab, Yves St. Laurent, Rexorize, Hermes, Anna Sui, Blumarine, Bottega Veneta, Chloe, Christian Lacroix, Lanvin, Paris, Max Azria, Salvatore Feragamo, Stella McCartney, Emilio, Pucci, Vivienne Westwood, Nina Ricci, Marios Schwab, CarolinaHerrera, Emanuel Ungaro, Mark and Spencer, Debenhams, House of Fraser, Laura Ashley, FCUK, Forever New, Forever 21, Brooks Brothers, Abercrombie and Fitch, Urban X, Mango, Promod, Aftershock, Sisley, Dsquared, Ed Hardy, Explosion, Lagos, Trussardi, New Look, Boden, Clock House, True Religion, Topshop, Jack Willis, ASOS, Blue Inc, Austin Reed, Dorothy Perkins, Etam, Karen Miller, La Senza,Miss Selfridge, Wallis, Burton, Jigsaw, Oasis, Matalan, Lipsy, London, PUMA, Ted Baker, Primark, Sweaty Betty, RiverIsland



Categories
T-Shirt, Polo Shirt, Sweat Shirt, Basic Shirt, Long Pant, Short Pant, Denim Jeans Pant, Cargo Pants, ChinoPants, Barmuda Pants, Tank Tops, Shorts, Frocks, Sweaters, Jackets, Hats & Caps, Panty, Underwear, Bra, Boxer, Trouser, Pajama, Towel, Sportswear



Genders
Kids, Men, Women, Unisex

Seasons
Spring, Summer, Autumn, Winter

আপনি নতুন হয়ে থাকলে প্রথমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ দিয়ে আরম্ভ করতে পারেন। এই যেমন: এক লক্ষ টাকা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার মধ্যে। আপনি শর্ট কোয়ান্টিটির স্টক ক্রয় করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে লং কোয়ান্টিটির পন্যেরও কিছু অংশ ক্রয় করতে পারেন, যদি সেই লট পার্শাল কোয়ান্টিটি সেল সাপোর্ট করে। সবাই ভালো থাকবেন।

Source: http://www.techtunes.com.bd/


Related All Post: 
গার্মেন্টস স্টকলট ব্যবসা : একটি লাভজনক বিনিয়োগ
বঙ্গবাজারে স্টক লটে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আধিপত্য

Wednesday, April 23, 2014

বঙ্গবাজারে স্টক লটে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আধিপত্য



বঙ্গবাজারে স্টক লটে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আধিপত্য

গার্মেন্টসের শিপমেন্ট বাতিল সামান্য ত্রুটিযুক্ত অর্ডারগুলো স্টক হয়ে গেলে তা দেশের এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী অপেক্ষাকৃত কমদামে কিনে আবারো বিদেশে রপ্তানি করে থাকে। আবার স্টকের যেসব কাপড় রপ্তানি সম্ভব হয় না তা গুলি¯ত্মানের বঙ্গবাজারসহ দেশের বিভিন্ন মার্কেটে চলে যায়। স্টক হয়ে যাওয়ার ফলে কারখানাগুলো যে বিশাল লোকসানের মুখোমুখি হয় তা এসব ব্যবাসায়ীর কারণে রক্ষা পায়। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সাউথ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ এসব স্টক লটের ক্রেতা হলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের স্টক লটের চাহিদা অনেক। প্রতিদিনই গার্মেন্টস স্টক থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা থেকে কাপড়গুলো কিনে তা ভারতসহ অন্যান্য দেশে রপ্তানি করছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বেশি হওয়ায় দিন দিন তাদের আনোগোনা যেমন বেড়েছে তেমনি ভারতীয় বিশেষ করে বাংলাভাষি ভারতীয় ব্যাবসায়ীরা বঙ্গবাজারসহ আশে পাশের বাজারে দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেছে। তাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়িরা খুশি হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা বাংলাদেশিদের ব্যবসা নষ্ট করতে শুরু করেছে।
বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ি আব্দুল জলিল বলেন, ভারতীয়রা যে কাপড় আগে আমাদের থেকে ক্রয় করতো এখন তারা সে কাপড় সরাসরি কারখানা থেকে কিনছে। বাংলাদেশের শ্রমিকের ঘামে যে কাপড় তৈরি হচ্ছে সে কাপড়ের লেবেল কেটে তারা মেড ইন ইনডিয়া লিখে অন্যান্য দেশে বিক্রি করছে। আবার বঙ্গবাজারে প্রতিদিনই বিদেশি খুচরা ক্রেতা আসে। ভারতীয়রা কৌশলে সম্পর্ক করে এসব ক্রেতাদের বাংলাদেশিদের থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় স্টক লটের ব্যবসায় পুরো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, বর্তমানে বঙ্গবাজার, নগরপ্লাজাসহ আশে পাশের মার্কেটগুলোতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বেশ কিছু দোকান গড়ে উঠেছে। এখন এসব মার্কেটে প্রতিদিনই অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেখা যায়।
আরিফ আহমেদ নামে বঙ্গবাজারের আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, যে কাপড় আমাদের রপ্তানি করার কথা তা রপ্তানি করছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের ব্যবসায় সব ধরণের সহযোগিতা করছে বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী। যদি এভাবে স্টক লটের ব্যবসায় ভারতীয়দের অধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায় তাহলে এক সময় বাংলাদেশি স্টক লট ব্যবসায়ীরা হারিয়ে যাবে।
বিজিএমইএ পরিচালক সাঈদুল ইসলাম সাদি আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের স্টক লটের প্রতি ভারতীয়দের আগ্রহের বিষয়টি সবারই জানা আছে। কিন্তু তারা নিজেরাই স্টক লট কিনে তা ভারতের নামে রপ্তানি করছে এধরণের অভিযোগ বিজিএমইএ এখনো পায় নি। ভারতীয়রা ক্রেতা হয়ে আমাদের স্টক লটগুলো কিনে নিতে পারে। এখানকার বিদেশি ক্রেতা ধরতে তারা বাজারে কোনভাবেই প্রতিযোগিতা করতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ সহ প্রশাসনের এখনই উদ্যোগ নেয়া দরকার।

Monday, February 10, 2014

পোশাক শিল্পে আড়াই হাজার কোটি টাকার স্টক লট জমা

পোশাক শিল্পে আড়াই হাজার কোটি টাকার স্টক লট জমা



ঢাকা: বিদায়ী বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্ডার বাতিল, ঠিক সময়ে শিপমেন্ট করতে না পারায় বর্তমানে পোশাক কারখানাগুলোতে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার স্টক লট জমা হয়েছে। ফলে কারখানাগুলোর অন্যান্য খরচের সঙ্গে যোগ হচ্ছে এই বিশাল লোকসান।


পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, গত এক বছরে পোশাক শিল্পেরর ওপর যে ধাক্কা এসেছে সেটা সামাল দিয়ে এ শিল্প টিকে আছে, এটাই বেশি। কারখানাগুলোতে যে হাজার কোটি টাকার স্টক লট জমা হয়েছে তা কোনো না কোনো ক্রেতার অর্ডারেই তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু সঠিক সময়ে শিপমেন্ট কারতে না পারা এবং  অর্ডার বাতিল হওয়ায় বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়নি। যা এখন নাম মাত্র মূল্যে খোলা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক কারখানা পরবর্তী মৌসুমে বিক্রির জন্য এসব পণ্য স্টক করে রাখছে।ফলে তা রক্ষাণাবেক্ষণ বাবদ বাড়তি খরচ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। 
বিজিএমইএ জানায়, বড় কারখানাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় এয়ার শিপমেন্ট করে অর্ডার পৌঁছালেও মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলো তা করতে পারেনি। ফলে তাদের স্টক লট বেশি হয়েছে। বিশেষ করে সান ম্যান গার্মেন্টস, আর জে এপারেলস, গোল্ডেন হরাইজেন’র মতো অসংখ্য কারখানা মালিকরা স্টক লট খোলা বাজারে বিক্রি করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গার্মেন্টসের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য বলেন, আমার একটি শিপমেন্ট চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা  না হওয়ায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার অর্ডার বাতিল হয়েছে।যার পুরো অর্ডারের কাপড়ই এখন স্টক লট হিসেবে গোডাউনে পড়ে আছে।

এ বিষয়ে জামান ফ্যাশনের কর্ণধার ও স্টক লট ব্যবসায়ী তানভীর জামান বাংলানিউজকে বলেন, আগের তুলনায় পোশাক কারখানাগুলোতে স্টক লটের পরিমাণ বেড়েছে। তবে এতে স্টক লট ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন না। কারণ এসব স্টক লটের কিছু বিদেশি ছোট ক্রেতা থাকে।তারাও এখন আসছে না।

তিনি আরও জানান, যেসব পণ্য স্টক লট হলে আগে ২৫ টাকা পিস হিসেবে কিনতে পারতাম এখন সেখানে ব্যয় হচ্ছে ৬০ থেকে ৭৫ টাকা। ফলে আমরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। 
টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বাংলানিউজকে বলেন, স্টক লট গার্মেন্টসে নানা কারণে হতে পারে। এর আগেও গার্মেন্টস এ স্টক লট হয়েছে। তবে গত এক বছর তা অনেক বেড়েছে। 

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অস্থিরতার পরও ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নিটওয়ার পণ্য রফতানি হয়েছিলো ৫ হাজার ৯৪৮ মিলিয়ন ডলারের। একই সময় ওভেন গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়েছে ৫ হাজার ৯৮৩ মিলিয়ন ডলারের।
বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, অর্থনীতির ৭০ ভাগই এ পোশাকশিল্পে জড়িত। দেশের রফতানির ৭৮ শতাংশই আয় হয় এ শিল্প থেকে। মোট জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি আসে পোশাকশিল্প খাত থেকে। দেশের প্রায় ৪০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে পোশাকশিল্প কারখানাগুলোতে। 

তাই এই শিল্প বাঁচানোর উদ্যোগ না নিলে পোশাক শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tuesday, March 12, 2013

সংকটে পোশাকশিল্প, ২ হাজার কোটি টাকার স্টক লট নিজস্ব প্রতিবেদক:

সংকটে পোশাকশিল্প, ২ হাজার কোটি টাকার স্টক লট 
-নিজস্ব প্রতিবেদক:




পোশাকশিল্প এখন এক ক্রান্তিকাল পার করছে। একের পর এক হরতালে এই খাতটি দারুণ সংকটে পড়েছে। গত কয়েকদিনের হরতালে পোশাকশিল্প খাতে স্টক লট হয়েছে হাজার কোটি টাকা। বিরোধী দলের এই ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি শিল্পের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

দেশে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বাজার অন্য দেশে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
তাজরীন ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকা-ে শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ার পর থেকেই বিদেশি ক্রেতারা এদেশের পোশাকশিল্পে বিনিয়োগের ব্যাপারে নতুন করে ভাবছেন। এই অবস্থায় সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতায় একের পর এক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাকে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে নেতিবাচক করে তুলছে। একের পর এক অর্ডার বাতিল হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সময়মতো পোশাক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করা যাচ্ছে না। ফলে বিলম্বিত হচ্ছে পোশাক রপ্তানি। এতে অনেক শিপমেন্ট বাতিল হয়েছে। গত কয়েক দিনের হরতালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার তৈরি পোশাকের স্টক লট হয়েছে বলে জানায় বিজিএমইএ সূত্র। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাকশিল্প কারখানার মালিক বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমার কারখানার একটি অর্ডার সাপ্লাইয়ের কথা ছিলো। হরতালের কারণে উৎপাদনে সময় বেশি লেগেছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদন কাজসহ শিপমেন্ট সম্পর্কিত অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পারিনি। এতে অর্ডার বাতিল হয়েছে। সাড়ে চার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হওয়ার কথা ছিলো, যা এখন স্টক লটে পরিণত হয়েছে। এখন এসব পণ্য খোলা বাজারে ৮০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে হবে। কিভাবে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করবো আর কিভাবে কারখানা টিকিয়ে রাখব সে চিন্তায় মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।”
তবে হরতালে চট্টগ্রাম স্থল বন্দরের কাজে তেমন কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বন্দরের সচিব ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, হরতালে বন্দরে মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। আর কোনো শিপমেন্টও বাতিল হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৬শ’ কন্টেইনার ওঠানামা করলেও হরতালে তা কমে আসে। হরতালের দিনগুলোতে গড়ে প্রায় ১২শ’ কন্টেইনার ওঠানামা করে।
স্টক লটের বিষয়ে বিজিএমইএ-এর কাছে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই বলে জানায় বিজিএমইএ।
বিজিএমইএ-এর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, “এটি পোশাক শিল্পের জন্য আত্মঘাতী হওয়ার পূর্ব সংকেত। এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি নির্ভর হওয়ায় হরতাল হলেই আমদানিতে সমস্যা হয়। অন্যদিকে হাইরিস্কের কারণে শিপমেন্ট ঠিক মতো করতে পারে না মালিকরা। ফলে ক্রেতারা আমাদের ওপর থেকে আস্থা হারাতে বসেছে।”
আর যখন শিপমেন্ট ঠিক সময়ে না করতে পারে তখন সে পণ্য স্টক লট হয়, যা এ শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ স্টক লট হওয়া পণ্য ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুণতে হয় মালিকদের। একদিনের হরতালে ব্যবসা-বাণিজ্যে তিন হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়। এসব হরতাল দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ দেশের অর্থনীতি। সম্প্রতি অস্থিরতার কারণে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছে না। এতে অনেক অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি।
বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতি (ইএবি) সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, “স্টক লট পোশাকশিল্পের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি খুব সাধারণ ভাবেই বোঝা যায় যে, মালিকরা বিনিয়োগ করে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না। ফলে আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর স্টক লট বিক্রি করে যা আয় হয় তা খুবই নগণ্য। কোন রকম বিক্রির জন্যই তা বিক্রি করা হয়। এটি এ শিল্পের এগিয়ে যাওয়ার পথে একটি অশনি সংকেত। আর সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্হি:বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আর আমাদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে কিনা, তা যদি পুনর্বিবেচনা করে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।”