Showing posts with label সমস্যা-সংকট. Show all posts
Showing posts with label সমস্যা-সংকট. Show all posts

Sunday, January 12, 2014

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার এককভাবে দখল করে নিচ্ছে ভারত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার এককভাবে দখল করে নিচ্ছে ভারত


বাংলাদেশে দীর্ঘদিন থেকে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। চীনের তৈরি পোশাকের উচ্চ মূল্য। এই দুয়ের কারণে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের বাজারে একক নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে ভারত। আর কথা খোদ ভারতের পোশাক রফতানিকারকরাই স্বীকার করেছেন। ভারতের নিজেদের হিসেবেই গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের তৈরি পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩. শতাংশ। বছর ফেব্রুয়ারিতে ভারতের পোশাক রফতানি ছিল ১৫৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। যা ছিল আগের বছরের একই মাসের তুলনায় দশমিক শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা আর চীনের তৈরি পোশাক উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশ দুটি থেকে বিশ্ব বাজারের মনোযোগ সরে আসছে। আর এতে সুবিধা পাচ্ছেন ভারতীয় পোশাক রফতানিকারকরা। বাংলাদেশ চীনের বাজার থেকে গার্মেন্টের বড় বড় সব অর্ডার চলে যাচ্ছে ভারতে।
সম্প্রতি ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতিতে ভারতীয় পোশাক রফতানি সুবিধা পেতে যাচ্ছে। একটি সূত্র জানায়, গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের তৈরি পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩. শতাংশ। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি (সিটি)-এর মহাসচিব ডি কে নায়ার ইকোনমিক টাইমসকে জানান, চলমান অর্থবছরে তৈরি পোশাক রফতানিতে উৎসাহব্যঞ্জক ক্রমবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘দেশটির রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি নিরাপত্তা ইস্যুগুলো সেখানকার পোশাক শিল্পের জন্য গুরুতর সমস্যা হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।’ বাংলাদেশের কিছু বিদেশী ক্রেতা এখন ভারত থেকে পোশাক ক্রয়ের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বছর ফেব্রুয়ারিতে ভারতের পোশাক রফতানি ছিল ১৫৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। যা ছিল আগের বছরের একই মাসের তুলনায় দশমিক শতাংশ বেশি। 
এদিকে দেশের গার্মেন্ট শিল্প খাতে নানাভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এই শিল্পকে পাটের অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিজ্ঞমহল থেকে আশংকা প্রকাশ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই গার্মেন্ট শিল্পের বিশৃঙ্খলা নানা ঘটনা প্রবাহে অস্থিরতা সৃষ্টি করে বিদেশী ক্রেতাদের বাংলাদেশের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি মহল থেকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সুযোগ সন্ধানী এই মহলটি বাংলাদেশ গার্মেন্ট বিষয়ে বিদেশী ক্রেতাদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে। তারা একই সাথে বিশৃঙ্খলা অস্থিরতার খবরটি ফলাও করে বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশও করছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে গার্মেন্ট খাত নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করে আমাদের এই শিল্পকে পাটের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ারও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, একটি মহলের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই একটি সুসমন্বিত ব্যবস্থায় বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে বিদেশে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করছে। তারা সংবাদের পাশাপাশি ভবন ধ্বস অগ্নিকা-ের ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে বিদেশী ক্রেতা সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের অবহিত করছে। এর মাধ্যমে এদেশের পোশাক শিল্প সর্ম্পকে বিদেশী ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছে। ঠিক এভাবেই এক সময় এদেশের চিংড়ী শিল্পকে নিয়েও ষড়যন্ত্র হয়েছে। পাট শিল্পকে এদেশ থেকে সরিয়ে দিতে স্বাধীনতা উত্তর সময়ে ঘন ঘন পাটের গুদামে আগুণ দেয়া হতো। পরে এই শিল্প এদেশে আর টিকতে পারেনি।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত দেশের তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে চলছে নানামুখী ষড়যন্ত্র। সাম্প্রতিক সময়ে সাভারের রানা প্লাজা ধসের পরে এখানেও এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ভবন মালিক সরকারের দলীয় লোক হওয়া সত্ত্বেও খোদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রানাকে দলীয় লোক নয় বলে মিথ্যাচার করা হয়েছে। তাই সংশয় দেখা দিয়েছে এই নির্মম ঘটনারও হয়তো কোন তদন্ত হবে না, অপরাধীরাও একদিন পার পেয়ে যাবে। দেশের চলমান অবস্থায় গার্মেন্ট সেক্টরের এই অস্থিরতার পেছনে ইন্ধন দেয়ার জন্য সরকার মালিক বা শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও বরাবরই অস্বীকার করা হচ্ছে। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে দেশের উদীয়মান এই শিল্পকে ধ্বংস করতে অস্থিরতা তৈরি করে প্রকৃত অর্থেই ফায়দা লুটছে কারা?
সচেতন মহল এটাও মনে করছেন বর্তমান গার্মেন্ট শিল্পের মতো ধরনের অনেক ষড়যন্ত্র আমাদের নিকট অতীতে পাট শিল্পকে নিয়েও হয়েছে। আর একারণেই বাংলাদেশ এখন পাটের কোন শিল্প নেই অথচ এই পাট শিল্পটি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে আমাদেরই প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে বাংলাদেশের পাটের মাধ্যমেই অনেক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। অথচ পাট উৎপাদন করেও আমরা এই শিল্প ধরে রাখতে পারি নাই।
সূত্র জানায়, আমাদের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আয়ই সাভার, আশুলিয়া এবং কাঁচপুরের পাঁচ শতাধিক গার্মেন্ট কারাখানার উৎপাদিত পণ্য রফতানি করে অর্জিত হয়। আর টাকার অংকে এর পরিমাণ হবে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। আর কারণেই পাশ্ববর্তী ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশ আমাদের এই অঞ্চলের গার্মেন্ট শিল্পকে টার্গেট করেছে।

Thursday, January 2, 2014

ভারতের উদরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর

ভারতের উদরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর


বাংলাদেশের অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতে গার্মেন্টস সেক্টরের ভূমিকা অপরিসীম। অপরদিকে দেশের লাখ লাখ মা-বোনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে এই খাত তাঁদের ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করে চলেছে। গার্মেন্টস সেক্টর আহরিত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ স্ফীত করেছে। এই খাতের উপর ভর করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু নানামুখী ষড়যন্ত্র এবং অব্যবস্থাপনার কারণে আমরা দিনের পর দিন গার্মেন্টস সেক্টরের বাজার হারাচ্ছি যা আমাদের জন্য ভয়ংকর এক দুঃসংবাদ।
অপরদিকে আমাদের হারানো বাজার চলে যাচ্ছে ভারতের উদরে। গার্মেন্টস সেক্টরের সব বড় বড় অর্ডারগুলো ভারতে চলে যাচ্ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত তৈরী পোশাক খাতে ভারতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.৪%।
অপর এক তুলনা চিত্রে দেখা যায়, চলতি পঞ্জিকা বছরের ফেব্রুয়ারীতে ভারতের পোশাক রফতানি ছিল ১৫৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৭% বেশী। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে ভারতের গার্মেন্টস সেক্টর।
অপরদিকে, দিনের পর দিন আমরা পিছিয়ে পড়ছি। অথচ এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।
[পুনশ্চ: আমাদের গার্মেন্টস সেক্টরে নানা ষড়যন্ত্রের কথা শোনা যায়। সামান্য ঘটনার অজুহাতে লেলিয়ে দেওয়া হয় শ্রমিকদের। কখনো কখনো রহস্যজনক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে তা গভীরভাবে খুঁজে দেখা দরকার। আমাদের বাজার নষ্ট হলে যারা তার বেনিফিসিয়ারী হয় তারা এই ষড়যন্ত্রের ক্রীড়ণক কিনা তাও খুঁজে দেখা জরুরী।]
- ছৈয়দ আন্ওয়ার
[লেখক: প্রকাশক, দৈনিক জনতা।]

Thursday, November 1, 2012

ইউরোপের বাজার দখলে মরিয়া ভারত, চাপে তৈরি পোশাক খাত

ইউরোপের বাজার দখলে মরিয়া ভারত, চাপে তৈরি পোশাক খাত


ঢাকা, ০২ নভেম্বর : বাংলাদেশের রপ্তানিখাতের প্রধান বাজার ইউরোপ দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী ভারত। এ লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। 

এ বছরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এ চুক্তি সই করতে চায় ভারত। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে। এ চুক্তি কার্যকর হলে ইইউভুক্ত দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য রপ্তানির সুবিধা পাবে দেশটি। এটি ভারতের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করলেও তা বাংলাদেশের বিশেষ করে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা রপ্তানিকারকদের। 

পোশাক রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, ভারত এ সুবিধা পেলে ইইউ জোটভুক্ত ২৭ দেশে বাংলাদেশের অন্তত ৩০ শতাংশ রপ্তানি আয় কমবে। শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণেই রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে প্রতিযোগিতায় টিকে আছে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার ইইউ।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই সমপ্রতি ওই দেশের পররাষ্ট্র সচিব এসআর রাওকে উদ্বৃত করে জানায়, ইইউর সঙ্গে এফটিএ করার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জানা গেছে, আলোচিত এই এফটিএ চুক্তি কার্যকর হলে এর আওতায় ভারত ইইউভুক্ত দেশে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের মতো শুল্কমুক্ত রপ্তনি সুযোগ বা জিএসপি সুবিধা পাবে। ফলে তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত খুব দ্রুত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। এতে বাংলাদেশকে আরও অনেক বেশি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৃহত্তর প্রতিযোগী হিসেবে এ বিষয়টি বাংলাদেশকে চাপে ফেলবে। 

তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজারের শীর্ষ দশ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান দ্বিতীয়। আর ভারতের অবস্থান পঞ্চম। বর্তমানে মোট রপ্তানি আয়ের ৫৭ শতাংশ আসে ইইউ বাজার থেকে। গত বছর জানুয়ারিতে দ্বি-স্তর থেকে এক স্তরের রফতানি সুবিধায় ইউরোপজুড়ে মন্দা সত্ত্বেও পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

সমপ্রতি এমসিসিআই আয়োজিত এক সেমিনারে ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা সফল হলে এ দেশের পোশাক রপ্তানি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এমনকি এ চাপে দেশের পোশাক রপ্তানি ২৫-৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি এখনই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, দেশে তৈরি পোশাক খাতে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১২ শতাংশ। অন্যদিকে ক্রেতারা পোশাকের দাম আগের চেয়ে কমিয়েছেন। এ ধরনের অনেক সমস্যার মুখোমুখি এখন পোশাক খাত। তবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উৎকণ্ঠার বিষয় হচ্ছে ভারতের সঙ্গে ইইউর দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। তিনি বলেন, যতদূর জেনেছি, এ নিয়ে উভয় পক্ষের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের শেষার্ধে অথবা আগামী বছরের শুরুতে এ চুক্তি কার্যকর হতে পারে।
ভারতের এফটিএ সুবিধাপ্রাপ্তির সম্ভাবনা ছাড়াও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে এ দেশের তৈরি পোশাক খাত চাপে রয়েছে বলে মহিউদ্দিন জানান। 

November 1, 2012

Tuesday, January 4, 2011

গার্মেন্ট শিল্পের আকাশে কালো মেঘ শ্রমিক অসন-োষ, কারখানা ভাংচুর, আগুন

গার্মেন্ট শিল্পের আকাশে কালো মেঘ শ্রমিক অসন-োষ, কারখানা ভাংচুর, আগুন

আরএইচ কৌশিক


এখন পর্যন- আমাদের রপ্তানির এককভাবে বড় সাফল্য মূলত পোশাক খাতই। অর্থনীতি এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, তাতে বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র অনেকখানি তৈরিই হয়ে আছে। সামাজিক খাতের সূচকগুলোতে আমরা সমপর্যায়ের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়েছি। বলা যায়, এসব সম্ভাবনা নিয়েই হাজির হয়েছে বাংলাদেশের দুয়ারে এ গার্মেন্ট শিল্পের জন্যই। কিন্তু গার্মেন্ট কারখানায় শ্রমিক অসন-োষ, ভাঙচুরসহ আগুন লাগার ঘটনা এ খাতের উদ্যোক্তাসহ সচেতন সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। নৈরাজ্যকর এসব ঘটনার সঠিক কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। এসব কারণে সম্ভাবনার এ খাতের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটিই এখন প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্বাধীনতার পর দেশে দ্রুত বিকাশমান শিল্পের মধ্যে গার্মেন্ট অন্যতম। ১৯৭৮ সালে ৮ লাখ টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি বর্তমানে ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রত্যক্ষভাবে ৪০ লাখ লোক কাজ করছেন। পরোক্ষভাবে কাজ করছেন এমন সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। তিলে তিলে গড়ে ওঠা এ শিল্প খাত জিডিপিতে ১৪ শতাংশ অবদান রাখছে। আমাদের জাতীয় রফতানি আয়ের সিংহভাগই আসে এ খাত থেকে। গত বছর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৫ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা মুনাফার ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকাই এ খাতের অবদান।

বিজিএমইএ'র তথ্যমতে, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে পোশাক খাতের রফতানি আয় ছিল ৩১ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রফতানি আয়ের মাত্র ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে এ খাতের রফতানি আয় বেড়ে হয় ২৯৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার, যা তখনকার দেশের মোট রফতানি আয়ের ২৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে (২০০৯-১০) এ খাতের রফতানি আয় ১২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে, যা হবে মোট রফতানি আয়ের ৭৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা কেটে যাওয়ার পর ক্রমেই বাড়ছিল রফতানি আয়। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বাজার। তবে সামপ্রতিক সময়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশের পোশাক খাত। রফতানি অর্ডার পাওয়া গেলেও গ্যাস-বিদু্যৎ সংকট ও শ্রমিক অসন-োষের কারণে সেগুলো ধরা যাচ্ছে না। রফতানি উন্নয়ন বু্যরো (ইপিবি) থেকে জানা গেছে, ২০০৯-১০ মোট রফতানির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৭৯ দশমিক ৪৬ ভাগই ধরা হয়েছে পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে ওভেন গার্মেন্টের জন্য টার্গেট ধরা হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৩ শতাংশ। নিটওয়্যার রফতানিতে টার্গেট ধরা হয়েছে ৭২৯ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার ডলারের। প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

পোশাক শিল্পের আন-র্জাতিক অঙ্গনের বড় বড় যেসব কোম্পানি এতদিন অন্যদেশে তাদের অফিস বা অন্য কোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে (বায়িং হাউস) বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনত, তারাও এখন সরাসরি এখানে আসছে। এতে করে বাংলাদেশ পোশাক বিক্রি করে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি মূল্য পাবে বলে মনে করছে এ খাতের উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও মানসম্পন্ন তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। খুবই মানসম্পন্ন কাপড় কিনে বিক্রি করে জার্মানির অ্যাডি বায়ার, এস অলিভার, স্পিরিট, আমেরিকার ডিকেএনওয়াই, কোল, টমি হিল ফিগার। অ্যাডি বায়ার শ্রীলঙ্কা থেকে চলে এসেছে বাংলাদেশে। কাজ দিয়েছে দেশের অন্যতম একটি পোশাক শিল্পকে। ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে জাপানেও বাংলাদেশের বড় বাজার তৈরির বেশ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমরা দেখেছি বারবার একইভাবে সাবধানতার কথা, যথাযথ নিরাপত্তার কথা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কথা, শ্রমিকের জানমালের নিরাপত্তার কথা বলা হলেও তার কোনো কিছুই বাস-বায়ন হয়নি। কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। আমাদের জাতীর স্বভাবসুলভ চরিত্র হিসেবেই ঘটনা ঘটার সপ্তাহ খানিক উচ্চবাচ্য করলেও পরে তা বেমালুম ভুলে যাই। শ্রমিক অস্থিরতা ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন লাগাটা এখন এ খাতে ভয়াবহ আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন গার্মেন্টে অগি্নকাণ্ডের পর হতাহতের ঘটনা তদন-ে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনগুলোতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে কারখানা তৈরি করা, দুর্ঘটনার সময় জরুরি অবতরণের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প সিঁড়ি না রাখা, সিঁড়ির মুখে লোহার গেটে তালা লাগানো থাকায় অগি্নকাণ্ডের সময় শ্রমিকরা বের হতে না পারা এবং বস-া, পোশাক ও আবর্জনা রেখে সিঁড়ির প্রবেশপথ বন্ধ করে রাখা ও অগি্ননির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাকে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। এছাড়া কারখানায় দরজা খোলা রাখার ব্যাপারে সরকার, বায়ার এবং বিভিন্ন তদন-কারী দলের পক্ষে বারবার সাবধান করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ শিল্পের সাথে জড়িতরা বলছেন, সামান্য কিছু সুতা-বোতাম চুরি ভয়ে কারখানার সব দরজা শেকল দিয়ে তালা মারা থাকে। দুর্ঘটনার সময় সেই তালার চাবিধারী দারোয়ান পালিয়ে যায়, ফলে আগুন লাগলে বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জীবন বাঁচানোর জন্য শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হতে পারে না। এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে যাওয়ার গেটও থাকে বন্ধ। অনেক ভবনের বাইরে দিয়ে ফায়ার স্কেপ সিঁড়ি থাকে না। মানবিক বিষয়কে উপেক্ষা করে শুধু ব্যবসায়িক বিষয় চিন-া করা হয়। যা শুনলে যে কারো গা শিউরে উঠবে। আগুন লাগার কারণ হিসেবে অনেকেই এমন প্রমাণ পেয়েছেন যে, ইন্সু্যরেন্স ক্লেইম, স্টক লট ক্লিয়ারসহ আরো ৩-৪ ধরনের কার্যকারণে এ আগুন লাগে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং গার্মেন্ট মালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে এ শিল্পে আগুনে ৭০০ বেশি শ্রমিকের মৃতু্য হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে ঢাকাসহ সারাদেশে ১২ হাজার ১৮২টি অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শুধু গার্মেন্ট শিল্পেই ২৯৩টি অগি্নকাণ্ড ঘটে। সরকারি হিসাবে এতে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৯৯ কোটি টাকা। আর ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন- মোট অগি্নকাণ্ড ঘটে ১৪ হাজার ৫৫৩টি, আগুনে পুড়ে মারা যায় ৪১৬ জন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০০ কোটি টাকা। বেসরকারি আরেক হিসাবে বলা হয়, ২০ বছরে গার্মেন্ট শিল্পে অগি্নকাণ্ডে ৫০০ শ্রমিক মারা গেছে। ১৯৯০ সালে দেশে প্রথমবার মিরপুরে গার্মেন্টস শিল্পে অগি্নকাণ্ড ঘটে। এতে পুড়ে মারা যায় ৩২ জন। সেই থেকে শুরু করে একের পর এক অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।
Source: Daily Ittefaq, 25 dec-2010


Some Subject (Many post in one subject):