Showing posts with label তৈরি পোশাকের বাজার. Show all posts
Showing posts with label তৈরি পোশাকের বাজার. Show all posts

Tuesday, January 14, 2014

বাংলাদেশি পণ্যের নতুন গন্তব্য তুরস্ক

বাংলাদেশি পণ্যের নতুন গন্তব্য তুরস্ক


গত বছর প্রায় পুরো সময় জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সহিংসতার মধ্যেও তুরস্কে পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিস্ময়কর সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজার না হলেও তুরস্কে পোশাক রপ্তানি ছিল ইর্ষণীয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসম্বর) বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি।
তুরস্কে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশের পণ্যের মধ্যে ৭৭ শতাংশই তৈরি পোশাক।
তুরস্ক নিজেরা পোশাক উৎপাদন থেকে সরে আসার পাশাপাশি নিজেদের ক্রমবর্ধমান বাজার বিদেশি পণ্যের জন্য নিজেদের বাজার উন্মুক্ত করে দেয়ায় বাংলাদেশের সামনে সুযোগ বেড়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা।
বেরসকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গত এক দশক ধরেই তুরস্কের অর্থনীতি ব্যপকভাবে বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ব্যাপক সম্প্রসারণ হয়েছে। দেশটির নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এই সুবিধা পুরোপুরি নিতে সক্ষম হয়েছেন।”
মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একমত বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান।
তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর ধরেই তুরস্কে আমাদের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। ইতিমধ্যে আমরা এর  ফল ভোগ করতে শুরু করেছি।
“কিছুদিন আগেও তারা নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশপাশি তৈরি পোশাক ইউরোপেও রপ্তানি করত। কিন্তু এখন তারা আর পোশাক উৎপদন করে না। সেই সুযোগেই আমরা তাদের বাজারে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছি।”
তৈরি পোশাক উৎপাদন থেকে তুরস্কের সরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, “শ্রমের মূল্যসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। ফলে আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা টিকতে পারছিল না। এতে আমাদের দুই দিক দিয়ে লাভ হয়েছে- আমরা তাদের বাজারেও প্রবেশ করছি; আবার তারা ইউরোপে যে পোশাক রপ্তানি করত- সেটাও দখল করার সুযোগ এসেছে।”
“অনেক ক্ষেত্রে তুরস্কের ব্যবসায়ীরা আমাদের এখান থেকে পোশাক কিনে নিয়ে কারখানায় শুধু প্রিন্ট বা এমব্রয়ডারি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন।”
গত তিন-চার বছর ধরেই বিকেএমইএ নিট পোশাক রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজতে জাপান, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রোডমার্চ, পণ্য প্রদর্শনীসহ (মেলা) নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি হওয়া ৭৭ শতাংশ তৈরি পোশাকের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি নিট পোশাক।
একে দেশের অর্থনীতির জন্য ‘উল্লেখযোগ্য’ আখ্যায়িত করে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সার্বিক রপ্তানি যেখানে ১৬ শতাংশ বেড়েছে; সেখানে শুধু তুরস্কেই ৬০ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অবশ্যই একটা বড় উলম্ফন।”
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে রপ্তানি আরও বাড়বে জানিয়ে এই গবেষক বলেন, “বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে তুরস্কে পণ্য রপ্তানিতে ১৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এটা না লাগলে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়বে।”
তিনি বলেন, “গত কয়েক বছরে তুরস্কে দ্রুত উন্নয়ন ঘটেছে। যার কারণে তাদের বাজারও বেড়েছে। তারা এখন তৈরি পোশাক বাদ দিয়ে অন্য সব খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। আমাদের এই সুযোগটিই কাজে লাগাতে হবে। আমাদের রপ্তানিকারকরা ইতিমধ্যেই সে কাজটি শুরু করে দিয়েছেন।।
সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেন মোস্তাফিজুর রহমান।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, ২০১৩ সালে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি এক বিলিয়ন (একশ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
এ সময়ে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। তুরস্ক থেকে বাংলাদেশ ১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল।
এ হিসাবে বাংলাদেশের অনুকূলে উদ্বৃত্ত বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
তৈরি পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে পাটের সুতা (ইয়ার্ন) এবং সিরামিক তুরস্কে রপ্তানি হয়। অন্যদিক তুরস্ক থেকে বাংলাদেশ লোহা, স্টিল, মেশিনারিজ এবং ফেব্রিক্স আমদানি করে।
ইপিবির তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ৭৬ কাটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য তুরস্কে রপ্তানি করে। এর বিপরীতে আমদানি হয় ২১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য। এসময় দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৯৮ কোটি ডলার।
ওই বছরে বাংলাদেশের অনুকূলে উদ্বৃত্ত বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৫৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
তুরস্ক সরকারের তথ্য মতে, ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০০৯-১০ অর্থবছরে তুরস্কে ৪৭ কোটি ৮২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। ২০১০-১১ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৭২ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের পণ্য।
২০১১-১২ অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ কমে ৫৫ কোটি ১৯ লাখ ডলারে নেমে গেলেও ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৬৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের পণ্য।

Source: http://www.bdherald.com


তুরস্কে তৈরি পোশাকের রপ্তানী বেড়েছে ১০৭ শতাংশ

এক্সপোর্ট  প্রমোশন ব্যুরো  ইপিবি  জানিয়েছে,  তুরস্কে বাংলাদেশের তৈরি   পোশাকের  রপ্তানী  বেড়েছে  ১০৭শতাংশ।গত অর্থবছরের  জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যšত্ম  সময়ে তুরস্কে যেখানে রপ্তানীর পরিমাণ ছিল১৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে  চলতি  অর্থবছরের একই  সময়ে  এই রপ্তানির পরিমাণ বেড়েদাঁড়িয়েছে  ৩৩৫ মিলিয়ন  মার্কিন  ডলারে।
ইপিবি জানায়,  চলতি অর্থ  বছরের প্রথম ৬ মাসে তুরস্কে নিটওয়্যার  গার্মেন্টস  পণ্যের রপ্তানীর  পরিমান৯৬  মিলিয়ন মার্কিন ডলার  এবং ওভেন  গার্মেন্টস  পণ্যের পরিমাণ ২৩৯  মিলিয়ন মার্কিন  ডলার।

সূত্রমতে,  ২০১১-১২ অর্থ বছরে তুরস্কে  বাংলাদেশের  তৈরি  পোশাকের  রপ্তানীরপরিমাণ ছিল৩৫৬মিলিয়নডলার যা ২০১২-১৩  অর্থ  বছরে ১৭শ তাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে  ৩৫৬  মিলিয়ন  মার্কিন ডলারে।
তবে  তুরস্ক  সরকার২০১১-১২  অর্থ  বছরে বাংলাদেশের তৈরি  পোশাকের  উপর নিরাপত্তা  শুল্ক   আরোপ  করায় এই রপ্তানীর  পরিমাণ  কিছুটা  হ্রাস পেলেও ২০১৩ সালে  তুরস্ক  সরকার  এই শুল্কের ব্যাপারে  অনেকটা  ছাড়দেয়ায় আবার দেশটিতে বাড়তে  থাকে  বাংলাদেশের  তৈরি  পোশাক    রপ্তানীর  পরিমান।
বিজিএমইএর  সহসভাপতি  শহিদুল্লাহ  আজিম  বলেনতুরস্কে বাংলাদেশের  তৈরি পোশাক  রপ্তানীর  ক্ষেত্রে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে  তাতে সরকারের  সহায়তা  যুক্ত  হলে  এই সম্ভাবনা  আরো       অনেক  দুর  এগিয়ে নেয়া সম্ভব  হবে।
ঢাকা ট্রিবিউন, আমাদের সময়.কম


Saturday, January 4, 2014

‘ব্রিকস’ হতে পারে তৈরি পোশাকের নয়া গন্তব্য

‘ব্রিকস’ হতে পারে তৈরি পোশাকের নয়া গন্তব্য
-আহমেদ তোফায়েল

পোশাক খাতের সম্প্রসারিত বাজার ধরার লক্ষ্যে নতুন গঠন হওয়া বিশেষ আন্তর্জাতিক ব্যাংক ‘ব্রিকস’-এর আওতাধীন উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ। রপ্তানির সমূহ সম্ভাবনা থাকায় পোশাক রপ্তানিকারকরা এই গ্রুপের পাঁচটি দেশের কথা বিবেচনা করছে। ব্রিকসভুক্ত দেশসমূহ হচ্ছে— ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। 
জানা গেছে, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সংগঠনের (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রতি বছর ব্রিকস দেশগুলোর পোশাক আমদানি বাড়ছে। এর কারণ হচ্ছে সেসব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে পোশাক তৈরির খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়া। তিনি মনে করেন অন্য দেশের বাজার কিছুটা ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান বাজার সহজেই ধরতে পারে। 
বিজিএমইএর মতে, প্রথাগত বাজারের বাইরে বা নতুন বাজারে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ৬০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।  
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ ভারত এবং চীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু রাশিয়া ও ব্রাজিলে উচ্চ শুল্কের কারণে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওতে রাশিয়া যোগ দিয়েছে ২০১১ সালে। এলডিসি বা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ রাশিয়ার কাছ থেকে শুল্ক সুবিধা নিতে পারে। আর সুবিধা নেয়ার জন্য সরকারের যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। 
চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, চীন ও ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। স্থলবন্দরে পণ্য খালাস ও অবকাঠামোগত অসুবিধা, পরীক্ষাগারের স্বীকৃতির সীমাবদ্ধতা, ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অসহযোগিতা এবং কিছু শুল্কমুক্ত ও কতিপয় শুল্ক সংক্রান্ত বাধা অন্যতম। 
পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের চাহিদা প্রথাগত এবং অপ্রথাগত উভয় বাজারে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রপ্তানি বাড়াতে অবকাঠামোগত সহায়তা খুব জরুরি বলে মনে করেন তারা। 
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ভারত এবং চীনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। চীনে ৩৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার রয়েছে। যদি মাত্র ৫ শতাংশ বাজার ধরা যায় তা হলে রফতানি ১৮ বিলিয়ন ডলারের ছাড়িয়ে যাবে।

Friday, January 3, 2014

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের চাহিদা


অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের চাহিদা



তৈরি পোশাকের রফতানি বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের একটি মার্কেট গড়ে তোলা হবে’ বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশী কমিউনিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা অনেক। এ চাহিদা কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাকের রফতানি আরও বাড়াতে হবে।’ আগামী চার বছরে অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি পোশাকের রফতানি ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন২০২১ সালে বাংলাদেশের মোট রফতানির পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য আমদানিকারক ও বাংলাদেশের রফতানিকারকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউএসএইড ও ইউকেএইডের আর্থিক সহযোগিতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি একটি জরিপ পরিচালনা করে। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের একটি পরিস্কার চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছেইপিজেডের শ্রমিকরা ন্যূনতম ১০ হাজার এবং অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরা ন্যূনতম ৭ হাজার ৩৪১ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। শ্রমিকরা কর্মবান্ধব পরিবেশে কারখানাগুলোতে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা তাদের মধ্য থেকে শ্রমিক নেতা নির্বাচন করতে আগ্রহী। বহিরাগত কোনো শ্রমিক নেতা তাদের পছন্দ নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে এখন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তৈরি পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মালিক ও শ্রমিকদের যৌথভাবে এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।’
অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেনের সভাপতিত্বের বিজিএমই’র পরিচালক সৈয়দ সাদেক আহমেদ এবং অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতারা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

Thursday, October 10, 2013

তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানির হাতছানি

তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানির হাতছানি

- মনজুর আহমেদ


রানা প্লাজা ধসের পর বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পোশাক খাত নিয়ে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, তা খানিকটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। এখন বড় এক সম্ভাবনার হাতছানি এসেছে এ শিল্পের জন্য।

সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দিক থেকে। পোশাকশিল্পের ভবন সংস্কারে ক্রেতারা বড় অঙ্কের বাজেট করেছেন ও করছেন। এই বাজেটের অর্থ দিয়ে ত্রুটিমুক্ত করা হবে কারখানা ভবন। শ্রমিকদের দেওয়া হবে নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার বিষয়ে নানা প্রশিক্ষণ। অগ্নিদুর্ঘটনা কমিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা কমানো যায়, সে জন্যও শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আধুনিক যন্ত্রপাতিতেও সজ্জিত করা হবে কারখানা।
ক্রেতারা তাদের শর্ত পরিপালন বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর হয়েছে। বছর ধরে ধরে তারা বাংলাদেশের পোশাক খাতের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। ফলে কর্মপরিবেশ উন্নত না করে কোনো ‘ব্র্যান্ডে’র কাজ করা আর সম্ভব হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়েই দেশের পোশাক খাত আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন শিল্পমালিকেরা।
তাজরীন ফ্যাশনসের পর স্মার্ট ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড, তারপর রানা প্লাজা ধসে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পাশাপাশি ক্রেতারাও তীব্র সমালোচনায় পড়ে। কিন্তু ক্রেতারাই বাংলাদেশের পোশাক খাতের ইতিবাচক দিক তুলে ধরছে। এ ক্ষেত্রে আমেরিকা, ইউরোপ উভয় অঞ্চলের ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানই এখন তাদের পোশাক তৈরি করে নেওয়ার দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেই গন্তব্য মনে করছে। শিল্পমালিকেরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো এত বড় শিল্পক্ষেত্র বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই। অন্য কোনো দেশই প্রস্তুত নয় পোশাকের বাজার ধরতে। সস্তা শ্রম, ঘনবসতি, ধৈর্য ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করে যেতে চায় না কোনো দেশেরই বিপুলসংখ্যক বিশেষত নারী শ্রমিক। সেখানেই বাংলাদেশের সম্ভাবনা।
সম্ভাবনা যেভাবে: মাঝখানে বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু রপ্তানির কাজ ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে চলে যাচ্ছিল। ভারতও কিছুটা তৈরি হতে শুরু করেছিল। কিন্তু বিপুল দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সস্তা শ্রম, শ্রমিকের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, শিল্পের বিরাট স্থাপনা ও স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পাওয়া শুল্কসুবিধা এগিয়ে নিয়েছে এ দেশকে।
রানা প্লাজা ধসের পর আমেরিকাতে ভোক্তারা এ দেশের পণ্য বর্জনের অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ তৈরি করেছে ভোক্তা ও শ্রমিক সংঘ। ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এককাট্টা হয়েছে। ‘অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করেছে ৮০টি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যেকে বছরে পাঁচ লাখ ডলার করে দেবে। ফলে পাঁচ বছরে এদের কাছ থেকে আসবে ২০ কোটি ডলার। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে ইউরোপীয় ক্রেতা প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে গেছে। আরও আছে নর্থ আমেরিকান অ্যালায়েন্স নামে উত্তর আমেরিকার ১৫ ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান, ইউরোপ ও আইএলওর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সমঝোতা চুক্তি ‘কমপ্যাক্ট’। আছে আমেরিকায় জিএসপি বিষয়ে বেশ কিছু পালনীয় শর্ত। এসব শর্ত পালনে ডিএফআইডি, জাইকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নও বড় ধরনের তহবিল তৈরি করেছে ও করছে। বাংলাদেশের শিল্প খাতকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতেই এসব শর্ত ও সহায়তা।
সার্বিক বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম থেকে তাদের চেষ্টা ছিল বিভিন্ন ক্রেতা ও দেশের যে ভিন্ন ভিন্ন শর্ত, তা অভিন্ন শর্তে আনা। আলোচনায় আমরা মতৈক্যে পৌঁছেছি যে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যার মধ্যে আমেরিকাতে জিএসপিও থাকবে, আবার আইএলওর শর্তও পালন হবে।’ তিনি বলেন, সম্ভাবনা তো আছেই, তবে প্রথম দু-এক বছর কিছুটা সমস্যা হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য।
বড় শিল্পগুলো তৈরি হচ্ছে: এনভয় দেশের পোশাক খাতের পরিচিত ও বড় শিল্পগোষ্ঠী। ময়মনসিংহের ভালুকাতে ৩২ বিঘা জমির ওপর নতুন একতলার কারখানা তৈরি করছে। এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বখ্যাত ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের কাজ পেতে হলে এখন এমন অনেক শর্ত পালন করতে হবে। একতলার ওপরে ভবন হলে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা কমে আসবে। তিনি বলেন, শিল্পমালিকেরা নিজেদের প্রয়োজনেই ক্রেতাদের এসব শর্ত পালন করবেন। তবে একটা ধাক্কা লাগতে পারে পোশাক খাতে। কিন্তু নতুনেরা এগিয়ে যাবে বলে মত দেন তৈরি পোশাক মালিক সমিতির সাবেক এই সভাপতি।
এনভয়ের মতো ভেতরে ভেতরে দেশের বড় পোশাক কারখানাগুলো একধরনের প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে বলে জানা যায়। এসব শিল্পমালিক মনে করেন, কারখানা পরিবেশ দ্রুত উন্নতির তাগিদ যেমন থাকতে হবে, তেমনি শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে তাঁদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে বাংলাদেশকে।
ছোট কারখানা বন্ধ হতে পারে: তবে ক্রেতাদের এসব শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশের ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের বেশ কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন মালিক সমিতির নেতারা।
বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, অবকাঠামো ও সব ধরনের শর্ত পালন না করতে পেরে ছোট ও মাঝারি কিছু কারখানা বন্ধ হতে পারে। কিন্তু সার্বিকভাবে পোশাক খাতকে এগিয়ে নিতে হলে ক্রেতাদের এসব শর্ত মানার কোনো বিকল্প নেই।

Wednesday, November 14, 2012

বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার হচ্ছে চীন

বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার হচ্ছে চীন


চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ব্যাপক। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে এ ঘাটতি। কারণ বাংলাদেশ চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও বিপরীতে চীনে তার রপ্তানি খুব সামান্য। চীনের রয়েছে বিস্তৃত উত্পাদন ক্ষেত্র আর বিশাল শিল্প-ভিত্তি। সে তুলনায় বাংলাদেশের পণ্য, বিশেষ করে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা খুব সামান্য। তাই বাংলাদেশ চীন থেকে সুঁই-সুতো থেকে শুরু করে মিলিটারি হার্ডওয়্যার পর্যন্ত হাজার হাজার ধরনের পণ্য আমদানি করে। কিন্তু চীনে দেশটি রপ্তানি করে কেবল হিমায়িত মত্স্য, পাট ও তৈরি পোশাক; তাও সামান্য পরিমাণে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে চীন বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিলেও অবস্থার এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো উন্নতি হয় নি। কারণ সেসব পণ্যের বেশিরভাগই চীনেও তৈরি হয়। তবে সম্প্রতি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাককে ঘিরে। চীন নিজেও তৈরি-পোশাকের একটা বড় উত্পাদক দেশ হলেও শ্রমিকের মজুরি ব্যাপভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে শ্রমঘন এ খাতের উত্পাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তাই চীনের ব্যবসায়ীরা এখন নজর রাখতে শুরু করেছে স্বল্পমূল্যের বাংলাদেশি তৈরি পোশাক খাতের দিকে।
বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য 'চায়না ন্যাশনাল গার্মেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিএনজিএ)'-এর আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করছে। ওই দলের প্রধান এবং সমিতির সহ-সভাপতি ফেং দেহু বলছিলেন, চীনের পোশাকশিল্পের উত্পাদনের বার্ষিক আকার বছরে ৩০ হাজার কোটি ডলারের। এর ৮২ শতাংশ দেশীয় বাজারে বিক্রি হয়। এসব তথ্য উল্লেখ করে চীনের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছিলেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করা সম্ভব এবং শিগগিরই চীন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার হয়ে উঠবে।
সফর সম্পর্কে জানাতে চীনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সেখানেই এসব আশার কথা শোনান ফেং দেহু।
চীনের প্রতিনিধিদলটি এমন সময় তৈরি পোশাকের বিষয়ে সম্ভাবনার কথা শোনালেন, যখন বিশ্বমন্দা ও ঋণসংকটে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমছে, ক্রেতারা কার্যাদেশ বাতিল করছেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইতোমধ্যে চীনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার-সুবিধা পেয়েছে। ফলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানিও বাড়ছে। ২০১১-১২ সালে চীনে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।
ফেং দেহু বলেন, তারা যতটুকু আশা করেছিলেন পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ তার চেয়েও বেশি উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের শিল্প-মালিকেরা কম খরচে অনেক ভালো পণ্য তৈরি করতে পারে।
চীনে একটি বড় ব্র্যান্ডের একজন প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক মানের দিক দিয়ে ভালো এবং দামেও কম। আগামী কয়েক মাসে আমরা বাংলাদেশে অর্ডারের পরিমাণ বাড়াব। চীনের স্যুট তৈরির একটি নামী প্রতিষ্ঠানের আরেকজন প্রতিনিধি জানান, তাঁরা এ দেশে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।
বিজিএমইএ বলছে, মজুরিসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় চীন তাদের পোশাকশিল্প অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে চাইছে। তারা বাংলাদেশে এলে সেটা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
সমিতির সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৮৭ শতাংশই এখনো যায় উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে। এ খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য এটা বেশ ঝুঁকির। এ অবস্থায় ১৩০ কোটি লোকের দেশের চীন বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় বাজার। তিনি বলেন, চীনে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি নির্ভর করছে বাংলাদেশ কতটা দক্ষতার সঙ্গে পোশাক তৈরি করতে পারে তার ওপর।
শুধু বেসরকারি খাত নয়, সরকারও খুব উদ্যোগী চীনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়াতে। বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের বলছিলেনে, চীন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বাজার। চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ কিংবা এ দেশ থেকে আমদানি করতে চাইলে সরকার তাঁদের সব ধরনের সুবিধা দেবে।

Wednesday, February 22, 2012

‘রাশিয়ায় তৈরি পোশাকের বাজার খোঁজা হচ্ছে’

‘রাশিয়ায় তৈরি পোশাকের বাজার খোঁজা হচ্ছে’

পাকিস্তান ইইউতে রফতানির ক্ষেত্রে ৭৫টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে৷ এর মধ্যে বাংলাদেশের আপত্তি করা তৈরি পোশাক খাতের পাঁচটি পণ্য রয়েছে৷ ইইউতে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা৷
এ ব্যাপারে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ'র দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তান সুযোগটা পেয়েছে দুই বছরের জন্য৷ বন্যা সহ অন্যান্য কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি খারাপ হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে স্বল্পোন্নত দেশ না হলেও পাকিস্তানকে এই সুবিধা দেয়া হচ্ছে৷ এতে বাংলাদেশের পোশাক খাতে সামান্য হলেও প্রভাব পড়বে বলে জানান সিদ্দিকুর রহমান৷ তবে অন্য দিক দিয়ে সেই ক্ষতিটা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি৷
রহমান বলেন, বাংলাদেশ গত বছর পোশাক খাত থেকে প্রায় আঠারশো কোটি ডলার আয় করেছে৷ এর শতকরা ৬০ ভাগ এসেছে ইইউ থেকে৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে জার্মানিতে৷
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশের গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে ইউরোপের আর্থিক মন্দা৷ ফলে ব্যবসা ভাল হচ্ছে না৷
তবে তিনি বলেন, নতুন নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে৷ বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলের মতো দেশে বাংলাদেশের পোশাকের বাজার হচ্ছে বলে জানান তিনি৷ এছাড়া রাশিয়াতেও ঢোকার চেষ্টা চলছে বলে জানান বিজিএমই'র এই কর্মকর্তা৷
প্রতিবেদন: জাহিদুল হক
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূ