Friday, February 11, 2011

তৈরি পোশাকের নতুন বাজার অর্থনীতির জন্য শুভসূচক

তৈরি পোশাকের নতুন বাজার অর্থনীতির জন্য শুভসূচক
০০ অর্কপ্রভ দেব

বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে রফতানির মাধ্যমে ১,০২৬ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয় হয়েছিল প্রায় ৭২৮ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ৪১ শতাংশ। গত বছর বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশ রফতানিতে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ একটি এবং বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। গত বছর বিশ্ব রফতানিতে ১২ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ৪১ শতাংশ ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বরাবরের মতো গত ছয় মাসেও রফতানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে তৈরি পোশাক খাত তথা নিট ও ওভেন পোশাক রফতানি থেকে। বিশ্বব্যাপী যখন অর্থনৈতিক মন্দার লো হাওয়া বইছে, বিশ্ব প্রবৃদ্ধি যখন নিম্নমুখী, বিশ্বের আমদানি-রফতানির পরিমাণ যখন কমছে, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি তেলসহ জিনিসপত্রের দাম যখন বাড়ছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ায় অনেক স্বল্পোন্নত দেশ যখন চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য আমদানির সাহস করছে না তখন বাংলাদেশ স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একটা স্বল্পোন্নত দেশের জন্য এ এক বিরল অর্জন। এর ফলে চলতি অর্থবছর দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশ হবে বলে অর্থনৈতিক বিশেস্নষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও বেশ স্থিতিশীল। বিশ্বে একমাত্র চীন ও ভারতই এর চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০১০ সালে চীনের প্রবৃদ্ধি ১০.৩ শতাংশ এবং ভারতের প্রবৃদ্ধি ৯.৪ শতাংশ। তারপরও চীন ও ভারতের রফতানি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে। মাত্র সাত হাজার মার্কিন ডলার রফতানি হয়েছিল সে বছর। সাহসী উদ্যোক্তা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পরবর্তী দেড় দশকে খাতটির তেমন অগ্রগতি হয়নি। ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে আয় হয়েছে মাত্র ৬২ কোটি ডলার। ইতোমধ্যে প্রথম প্রজন্মের একদল নবীন উদ্যোক্তা এ খাতে বিনিয়োগ শুরু করে। ফলে পরবর্তী পাঁচ বছরে রফতানি আয় কয়েক গুণ বাড়ে। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রফতানি আয় ২২৩ কোটিতে উন্নীত হয়। তারপর থেকে এ খাতকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। যদিও ১৯৯৩-৯৫ সময়ে জিএসপি জালিয়াতির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জিএসপি সুবিধা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। ১৯৯৬'র সরকার এর শান্তিপূর্ণ সমাধান করে। তারপর থেকে প্রতি বছর ২০ শতাংশের বেশি হারে বেড়েছে তৈরি পোশাক রফতানি। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে রফতানি আয় হয়েছে ১,২৫০ কোটি ডলার। চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক খাতে আয় হয়েছে ৭৯৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৫৫৯ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪২.২ শতাংশ। আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ১৯৯০'র দশক পর্যন্ত গার্মেন্টস খাতের আয়ের সিংহভাগ আসতো ওভেন পোষাক তথা শার্ট, ট্রাউজার, সু্যয়েটার প্রভৃতি থেকে। ১৮৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে নিট পোশাক তথা টি-শার্ট, আন্ডারগার্মেন্টস প্রভৃতি থেকে আয় বাড়তে থাকে। এক সময় এ আয় ওভেন পোশাকের আয়কে ছাড়িয়ে যায়। গত অর্থবছরে নিট পোশাক থেকে আয় হয়েছে ৪৩১ কোটি ডলারের বেশি। আর ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৩৬৪ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে নিট পোশাক থেকে এসেছে ৪৩১ কোটি ডলার। আর ওভেন পোশাক থেকে এসেছে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার। নিট পোশাক তৈরিতে দেশীয় মূল্য সংযোজনের হার ওভেনের তুলনায় বেশি। তাই নিট পোশাক রফতানি বৃদ্ধি মানে দেশের অর্থনীতির জন্য আরো শুভসূচক।
১৯৯০'র দশকে রফতানির বিপরীতে সরকারের ক্যাশ ইনসেনটিভ প্রদান এবং পরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও আর্থিক প্রণোদনা, দেশীয় উদ্যোক্তাদের সাহসী উদ্যোগ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডবিস্নউটিও), ইইউসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রফতানির পক্ষে নীতি প্রণয়নে সরকারের সফল দরকষাকষি সবকিছুই বাংলাদেশের পক্ষে গেছে। ২০০৫ সাল থেকে ইইউতে জিএসপি প্রথা চলে যাবে, বাংলাদেশ কম শুল্কে রফতানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমে যাবে এমন আশঙ্কাও পরবর্তীতে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৮ সালে মন্দা দেখা দেয়ার পর তৈরি পোশাক রফতানি কমে যাবে এমনটাও অনেকে আশঙ্কা করেছিল। অবশ্য এ আশঙ্কা অমূলক ছিল না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির প্রায় ৯৪ শতাংশ হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। আর মন্দার প্রভাবও এ সব দেশেই বেশি। বাস্তবে বিপরীত ফলই এসেছে। দেশের প্রায় পাঁচ হাজার গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক যাদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী তাদের জন্য এটি একটি বড় পাওয়া। এটি সরকারের জন্য স্বস্তির। আর পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের জন্য হাঁফ ছেড়ে বাঁচার মতো অবস্থা। বাংলাদেশের পোশাক এখন বিশ্ববাজারে সমাদৃত। ইইউতে কোনো কোনো ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। ডবিস্নউটিও'র তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের দুই নম্বর গার্মেন্টস রফতানিকারক দেশ। চীনের সাথে বাংলাদেশের পার্থক্য অনেক বেশি হলেও শ্রমের মজুরিসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চীনের চেয়ে ভাল অবস্থায় আছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের প্রধান রফতানি বাজার। এ সব দেশে ২০০৮ সাল থেকে মন্দা অব্যাহত থাকায় সহজেই ধরে নেয়া হয়েছিল বাংলাদেশের রফতানি কমবে। মন্দার কারণে সেসব দেশে চাহিদা কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশের রফতানি কমেনি। ২০০৯ সালে রফতানিসহ বাংলাদেশের রফতানি বাজারগুলোতে দামি পোশাকের চাহিদা কমেছে। তাই চীন, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে। জনগণের জীবনমান বৃদ্ধির ফলে এ সব দেশে শ্রমের মজুরি বেড়ে গেছে। তাই তারা বেশি মূল্য সংযোজিত পোশাক যেমন জ্যাকেট, বেস্নজার, সুু্যট প্রভৃতি উৎপাদনে মন দেয়। শার্ট. টি-শার্ট, ট্রাউজার, আন্ডারগার্মেন্টস ইত্যাদিতে শ্রমিকের মজুরি দিয়ে তেমন লাভ হয় না দেখে গত ৫/৭ বছরে তারা এ সব পোশাক উৎপাদন এক রকম ছেড়েই দিয়েছে। মন্দার কারণে উন্নত দেশের ভোক্তারা এখন দামি পোশাকের পরিবর্তে সস্তা পোশাক কিনছে। তাই বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, লাউস, আফ্রিকার কয়েকটি তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশের এখন পোয়াবারো। বাংলাদেশের গার্মেন্টস উৎপাদন ক্ষেত্রটি বড় বিধায় রফতানি বেশি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর মন্দা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের পদক্ষেপগুলো থেকে কিছু কিছু ফল আসলেও এখনো বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তারপরও এ খাতের বিশ্ববাজারের মাত্র তিন শতাংশ বাংলাদেশের দখলে। রফতানি বাড়ানোর বহু সুযোগ এখনো আছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সাল থেকে আফ্রিকান গ্রোথ এন্ড অপোরচুনিটি আ্যাক্ট, ২০০০ অনুযায়ী আফ্রিকার প্রায় ৪০টি দেশকে এবং ক্যারিবিয়ান বেসিন ইকোনোমিক রিকোভেরি অ্যাক্ট ১৯৮৩ এর আওতায় প্রায় ২০টি ক্যারিবীয় দেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ২০০৬ সালে ক্যারিবীয় দেশগুলো থেকে ২,৫০০ কোটি ডলার এবং আফ্রিকার দেশগুলো থেকে ৩,৬০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। যার মধ্যে তৈরি পোশাকও আছে। এর ফলে এ দুটি অঞ্চলের অনেক দেশ তৈরি পোশাক রফতানি বাজারে জোরালোভাবে আসতে শুরু করেছে। এ সব দেশ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশের বাজারেও প্রবেশ করছে। বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়নি। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশকে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দিনে দিনে এ প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং তা গোটা অঞ্চলেই বিস্তৃত হবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত রফতানি সুবিধা আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার সৃজনের দুর্বার চেষ্টা চালাতে হবে।

সার্ক মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় ভারত বাংলাদেশকে কিছু শর্তসাপেক্ষে শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা দেয়ার কথা। বহু আলোচনার পর ভারত ২০০৮ সাল থেকে বছরে ৮০ লাখ পিস তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা বেঁধে দেয়। ভারতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্য বাংলাদেশ ২০০৮ ও ২০০৯ সালে নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে পারেনি। ২০০৮ সালে নির্ধারিত কোটার ২৩ শতাংশ এবং ২০০৯ সালে ৩৭ শতাংশ পোশাক রফতানি করতে সমর্থ হয়েছে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের ফলে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বড় বড় সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি কোটা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রফতানির জটও খুলেছে। ২০১০ সালের পুরো কোটা অক্টোবর মাসের মধ্যেই রফতানি করা হয়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কোটা নির্ধারণী আলোচনার সময় ভারত সম্মত হয়েছিল যে, বাংলাদেশ কোটা পূরণ করতে পারলে পর্যায়ক্রমে কোটা বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয়া হবে। এ অঙ্গীকার পূরণের জন্য দ্রুত আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। ভারতে এখন ২,৮০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের বাজার আছে এবং প্রতি বছর এ চাহিদা ১৮ শতাংশ করে বাড়ছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের সাথে সাথে তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ানোর পথও সুগম হতে পারে। দেশভিত্তিক রফতানি তথ্য বিশেস্নষণ করলে দেখা যায়, রফতানি বাজার সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, সংযুক্ত আরব আমীরাত, হংকং এবং ল্যাটিন আমেরিকার ব্রাজিল ও চিলিতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।
সারণী অনুযায়ী প্রতিটি দেশেই রফতানি প্রতি বছর বাড়ছে। কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো প্রত্যেকেরই বাজার চাহিদা বেশি এবং প্রতি বছরই তা বাড়ছে। এ সব দেশে ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশ প্রচুর রফতানি করছে। আমাদের দরকার এ সব দেশের বাজার চাহিদা অনুধাবন করা। আমদানিকারকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করা। তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক তৈরি করা। এ জন্য রফতানিকারকদের তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে। এ সব দেশে ঘন ঘন প্রতিনিধিদল পাঠাতে হবে। আলোচনা-দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমদানিকারক তথা ভোক্তার চাহিদাকে মূল্য দিতে হবে। তাদের চাহিদামতো উৎপাদন করতে হবে। তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারকদের বাজার সম্প্রসারণ প্রচেষ্টায় সরকারের উৎসাহ প্রদান প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করতে হবে। মিশনগুলোকে আরো বাণিজ্য-বান্ধব করে তুলতে হবে। তবেই তৈরি পোশাক রফতানি বাজার সম্প্রসারণের যে নবদুয়ার উন্মোচিত হয়েছে তা আরো বিস্তৃত ও চওড়া করা সম্ভব হবে। শ্রমঘন এ খাতটির প্রসার টেকসই করার জন্য অগ্র-পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পে স্বয়ংস্পূর্ণ হওয়ার উদ্যোগ গ্রহণসহ একটি জাতীয় পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

রফতানি আয় (কোটি ডলারে)

দেশ ২০০৬-০৭ ২০০৭-০৮ ২০০৮-০৯ ২০০৯-১০
কানাডা ৪০.৮৬ ৪৬.৭৮ ৫৮.৭০ ৫৯.৫৫
জাপান ২.০৯ ২.৮০ ৭.৪৪ ১৭.৩৩
অস্ট্রেলিয়া ১.০৪ ২.১৯ ৪.৯৩ ৮.৫৬
মেক্সিকো ৪.৬৭ ৬.০৫ ৮.১৯ ৬.১৪
ব্রাজিল ০.৫০ ১.৬৪ ৩.৯৬ ৪.৫২
আরব আমীরাত ০.৭২ ১.৫০ ২.৭৬ ৩.৪৫
হংকং ১.৪০ ১.৯৭ ২.৩০ ২.৫৭
ভারত ০.২৮ ০.৫০ ১.০৯ ১.২৫

Some Subject (Many post in one subject):

Saturday, January 22, 2011

গার্মেন্টনির্ভর সময়োপযোগী পেশা

গাইডগার্মেন্টনির্ভর সময়োপযোগী পেশা
চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা আর ভবিষ্যৎ গড়তে সিদ্ধান্তহীনতা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বেশিরভাগ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের। চাকরির এই অপ্রতুলতার কারণে যেখানে নিজেকে টিকিয়ে রাখা মূল লক্ষ্য, সেখানে শুধু একাডেমিক পড়াশোনা করে আগামীর সুন্দর স্বপি্নল ক্যারিয়ার গড়ার সময় এখন আর নেই। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে মানুষ অনেক বেশি সচেতন। সবার কাছে এখন সময়ের দাবি তার ক্যারিয়ারটা যেন আধুনিক ও স্মার্ট হয়। তাই সাধারণ একাডেমিক ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়ে এসে চলমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সৃজনশীল ক্রিয়েটিভ ডিগ্রি নেওয়ার জন্য ঝুঁকছেন অনেকেই। ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে যে কেউ এখন গড়তে পারেন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। গার্মেন্ট শিল্পের সময়োপযোগী ও চাহিদাসম্পন্ন পেশার ওপর লক্ষ্য রেখে কিছু যুগোপযোগী বিষয় চালু করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (এনআইএফটি)। যাদের রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মালয়েশিয়ার লিমককউং ইউনিভার্সিটির অ্যাপিলিয়েশন। এদের অধীনে এনআইএফটির পরিচালনা করছেন ফ্যাশন ডিজাইনে-এমবিএ ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, বিএসসি অনার্স ইন অ্যাপারেল ম্যানুফেকচারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (এমএমটি), নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (কেএমটি), ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি (এফডিটি), ফ্যাশন মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড টেকনোলজি জি (এফএমটি) কোর্স। এই কোর্সগুলোতে এনআইএফটিতে ১ বছর পড়াশোনা করে লিমককউং ইউনিভার্সিটির সারা বিশ্বের ১৪৫টি ক্যাম্পাসের যেকোনো একটিতে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। এসব কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান ২.০০ উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন। এছাড়া এনআইএফটির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইইটি)-তে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক ৪ বছর মেয়াদি ৮ সেমিস্টারে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স রয়েছে। এছাড়া এনআইএফটিতে ফ্যাশন ডিজাইনে রয়েছে বিভিন্ন ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স। এনআইএফটি, ঢাকা। ফোন : ০১৭৩১-২২০০৯৯,

Related All Post:

পোশাক শিল্পে চাকরির সুযোগ




Related All Subject (Many post in one subject): 


Tuesday, January 4, 2011

গার্মেন্ট শিল্পের আকাশে কালো মেঘ শ্রমিক অসন-োষ, কারখানা ভাংচুর, আগুন

গার্মেন্ট শিল্পের আকাশে কালো মেঘ শ্রমিক অসন-োষ, কারখানা ভাংচুর, আগুন

আরএইচ কৌশিক


এখন পর্যন- আমাদের রপ্তানির এককভাবে বড় সাফল্য মূলত পোশাক খাতই। অর্থনীতি এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, তাতে বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র অনেকখানি তৈরিই হয়ে আছে। সামাজিক খাতের সূচকগুলোতে আমরা সমপর্যায়ের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়েছি। বলা যায়, এসব সম্ভাবনা নিয়েই হাজির হয়েছে বাংলাদেশের দুয়ারে এ গার্মেন্ট শিল্পের জন্যই। কিন্তু গার্মেন্ট কারখানায় শ্রমিক অসন-োষ, ভাঙচুরসহ আগুন লাগার ঘটনা এ খাতের উদ্যোক্তাসহ সচেতন সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। নৈরাজ্যকর এসব ঘটনার সঠিক কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। এসব কারণে সম্ভাবনার এ খাতের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটিই এখন প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্বাধীনতার পর দেশে দ্রুত বিকাশমান শিল্পের মধ্যে গার্মেন্ট অন্যতম। ১৯৭৮ সালে ৮ লাখ টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি বর্তমানে ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রত্যক্ষভাবে ৪০ লাখ লোক কাজ করছেন। পরোক্ষভাবে কাজ করছেন এমন সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। তিলে তিলে গড়ে ওঠা এ শিল্প খাত জিডিপিতে ১৪ শতাংশ অবদান রাখছে। আমাদের জাতীয় রফতানি আয়ের সিংহভাগই আসে এ খাত থেকে। গত বছর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৫ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা মুনাফার ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকাই এ খাতের অবদান।

বিজিএমইএ'র তথ্যমতে, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে পোশাক খাতের রফতানি আয় ছিল ৩১ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রফতানি আয়ের মাত্র ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে এ খাতের রফতানি আয় বেড়ে হয় ২৯৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার, যা তখনকার দেশের মোট রফতানি আয়ের ২৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে (২০০৯-১০) এ খাতের রফতানি আয় ১২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে, যা হবে মোট রফতানি আয়ের ৭৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা কেটে যাওয়ার পর ক্রমেই বাড়ছিল রফতানি আয়। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বাজার। তবে সামপ্রতিক সময়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশের পোশাক খাত। রফতানি অর্ডার পাওয়া গেলেও গ্যাস-বিদু্যৎ সংকট ও শ্রমিক অসন-োষের কারণে সেগুলো ধরা যাচ্ছে না। রফতানি উন্নয়ন বু্যরো (ইপিবি) থেকে জানা গেছে, ২০০৯-১০ মোট রফতানির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৭৯ দশমিক ৪৬ ভাগই ধরা হয়েছে পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে ওভেন গার্মেন্টের জন্য টার্গেট ধরা হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৩ শতাংশ। নিটওয়্যার রফতানিতে টার্গেট ধরা হয়েছে ৭২৯ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার ডলারের। প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

পোশাক শিল্পের আন-র্জাতিক অঙ্গনের বড় বড় যেসব কোম্পানি এতদিন অন্যদেশে তাদের অফিস বা অন্য কোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে (বায়িং হাউস) বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনত, তারাও এখন সরাসরি এখানে আসছে। এতে করে বাংলাদেশ পোশাক বিক্রি করে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি মূল্য পাবে বলে মনে করছে এ খাতের উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও মানসম্পন্ন তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। খুবই মানসম্পন্ন কাপড় কিনে বিক্রি করে জার্মানির অ্যাডি বায়ার, এস অলিভার, স্পিরিট, আমেরিকার ডিকেএনওয়াই, কোল, টমি হিল ফিগার। অ্যাডি বায়ার শ্রীলঙ্কা থেকে চলে এসেছে বাংলাদেশে। কাজ দিয়েছে দেশের অন্যতম একটি পোশাক শিল্পকে। ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে জাপানেও বাংলাদেশের বড় বাজার তৈরির বেশ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমরা দেখেছি বারবার একইভাবে সাবধানতার কথা, যথাযথ নিরাপত্তার কথা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কথা, শ্রমিকের জানমালের নিরাপত্তার কথা বলা হলেও তার কোনো কিছুই বাস-বায়ন হয়নি। কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। আমাদের জাতীর স্বভাবসুলভ চরিত্র হিসেবেই ঘটনা ঘটার সপ্তাহ খানিক উচ্চবাচ্য করলেও পরে তা বেমালুম ভুলে যাই। শ্রমিক অস্থিরতা ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন লাগাটা এখন এ খাতে ভয়াবহ আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন গার্মেন্টে অগি্নকাণ্ডের পর হতাহতের ঘটনা তদন-ে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনগুলোতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে কারখানা তৈরি করা, দুর্ঘটনার সময় জরুরি অবতরণের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প সিঁড়ি না রাখা, সিঁড়ির মুখে লোহার গেটে তালা লাগানো থাকায় অগি্নকাণ্ডের সময় শ্রমিকরা বের হতে না পারা এবং বস-া, পোশাক ও আবর্জনা রেখে সিঁড়ির প্রবেশপথ বন্ধ করে রাখা ও অগি্ননির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাকে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। এছাড়া কারখানায় দরজা খোলা রাখার ব্যাপারে সরকার, বায়ার এবং বিভিন্ন তদন-কারী দলের পক্ষে বারবার সাবধান করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ শিল্পের সাথে জড়িতরা বলছেন, সামান্য কিছু সুতা-বোতাম চুরি ভয়ে কারখানার সব দরজা শেকল দিয়ে তালা মারা থাকে। দুর্ঘটনার সময় সেই তালার চাবিধারী দারোয়ান পালিয়ে যায়, ফলে আগুন লাগলে বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জীবন বাঁচানোর জন্য শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হতে পারে না। এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে যাওয়ার গেটও থাকে বন্ধ। অনেক ভবনের বাইরে দিয়ে ফায়ার স্কেপ সিঁড়ি থাকে না। মানবিক বিষয়কে উপেক্ষা করে শুধু ব্যবসায়িক বিষয় চিন-া করা হয়। যা শুনলে যে কারো গা শিউরে উঠবে। আগুন লাগার কারণ হিসেবে অনেকেই এমন প্রমাণ পেয়েছেন যে, ইন্সু্যরেন্স ক্লেইম, স্টক লট ক্লিয়ারসহ আরো ৩-৪ ধরনের কার্যকারণে এ আগুন লাগে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং গার্মেন্ট মালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে এ শিল্পে আগুনে ৭০০ বেশি শ্রমিকের মৃতু্য হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে ঢাকাসহ সারাদেশে ১২ হাজার ১৮২টি অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শুধু গার্মেন্ট শিল্পেই ২৯৩টি অগি্নকাণ্ড ঘটে। সরকারি হিসাবে এতে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৯৯ কোটি টাকা। আর ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন- মোট অগি্নকাণ্ড ঘটে ১৪ হাজার ৫৫৩টি, আগুনে পুড়ে মারা যায় ৪১৬ জন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০০ কোটি টাকা। বেসরকারি আরেক হিসাবে বলা হয়, ২০ বছরে গার্মেন্ট শিল্পে অগি্নকাণ্ডে ৫০০ শ্রমিক মারা গেছে। ১৯৯০ সালে দেশে প্রথমবার মিরপুরে গার্মেন্টস শিল্পে অগি্নকাণ্ড ঘটে। এতে পুড়ে মারা যায় ৩২ জন। সেই থেকে শুরু করে একের পর এক অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।
Source: Daily Ittefaq, 25 dec-2010


Some Subject (Many post in one subject):

Thursday, December 16, 2010

পোশাক ক্রেতাদের নজর এখন বাংলাদেশে : বায়ারদের চাপে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকে

পোশাক ক্রেতাদের নজর এখন বাংলাদেশে : বায়ারদের চাপে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকে
সৈয়দ মিজানুর রহমান

গত অর্থবছরের প্রথম ৫ মাস জুলাই-নভেম্বরে যেখানে পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি (মাইনাস) ছিল, চলতি বছরের একই সময়ে সেখানে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৩৫ শতাংশ। যেসব কারখানা গত বছর রপ্তানি আদেশ না থাকায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোতে এবার কাজের চাপে নতুন অর্ডার নেয়া বন্ধ করেছেন কর্তৃপক্ষ। পোশাক মালিক-শ্রমিকদের ব্যস্তাই শুধু বাড়েনি। রাজধানীর অভিজাত এলাকার বায়িং হাউজগুলোতে দিন-রাত কাজ চলছে। অভিজাত এলাকার হোটে-রেস্টুরেন্টগুলোতে চাপ বেড়েছে বিদেশী ক্রেতাদের ভীড়ে। এসব তথ্য পোশাক রপ্তানিকারকদের।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু তৈরি পোশাকেরই নয়, অন্যান্য পণ্যের রপ্তানির বেলায় একই অবস্থা। গত অক্টোবর থেকেই রপ্তানি খাত ঘুরে দাড়াতে শুরু করে। সংশিস্নষ্টরা মনে করছেন, চলতি অর্থবছর শেষে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি অন্তত ৩০ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র দেয়া তথ্য মতে, চলতি ২০১০-২০১১ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে রপ্তানিতে ইউডি বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। পোশাক খাতে ইউডি বাড়ার অর্থই হলো রপ্তানি আদেশ বাড়ছে। সংগঠনের সভাপতি আবদুল সালাম মুর্শেদী জানান, বিশ্ব বাজারে চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়েছে। তবে যেই হারে অর্ডার আসছে, সবগুলো সেভাবে ধরা যাচ্ছে না। কারণ উলেস্নখ করে তিনি বলেন, ঘনঘন বিদ্যুতের লুডশেডিং, চট্টগ্রাম বন্দরের অব্যবস্থাপনা এবং সময়মত প্রণোদণা প্যাকেজ না পেয়ে অনেক উদ্যোক্তা নতুন করে কাজ শুরু করতে পারছেন না। যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর অনেকেই উতপাদন শুরু করেছেন, তবে শতকরা হিসেবে এ সংখ্যা ১৫/২০ ভাগের বেশি হবে না। তিনি জানান, প্রণোদনা প্যাকেজ সময়মত বাস্তবায়ন হলে এখন যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা ঠিকমত উতপাদন করতে পারছে না, সেগুলো পুরো দমে উতপাদনে থাকত। এতে দেশের জন্যই মঙ্গল হত। তবে নতুন নতুন বাজার তৈরি হচ্ছে বেেলা তিনি জানান।

সূত্র মতে, দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি আয়ের খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এ শিল্পের বাজার প্রতিনিয়তই বাড়ছে। দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৭৮শতাংশই আসে এ খাত থেকে। মূলত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রফতানি হ"েছ। সাড়ে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ শিল্পটি বাজার সমপ্রসারণের জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় উদ্যোগগুলো কাজে লাগছে না।

এদিকে পোশাকশিল্পের নতুন বাজার খুঁজতে গিয়ে গত বছর বিজিএমইএ'র একটি প্রতিনিধি দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পতর্ুগালসহ ল্যাটিন আমেরিকার আরো কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে। এ ভ্রমণের ফলাফল হিসেবে সমপ্রতি শেষ হওয়া বটেঙ্পো মেলায় উপরোক্ত দেশগুলোর ক্রেতাদের অংশগ্রহণ এবং এদেশ থেকে পোশাক ক্রয়ের জন্য স্পট অর্ডারও দিয়েছেন।

এবারের বাটেঙ্পো মেলায় মোট ৬৫ মিলিয়র মার্কিন ডলারের স্পট অর্ডার পেয়েছেন এদেশের পোশাকশিল্পের মালিকরা। পাশাপাশি আরো ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তুু অর্ডার পেলেও সেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় রফতানি কার্যক্রম দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে না।

যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে সেসব দেশে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা না থাকায় অনেক সময় রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে বাংলাদেশকে প্রতিবছরই কোন না কোন বায়ার হারাতে হ"েছ। বর্তমানে জাতিসংঘের সদ্যভুক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ৩৯টি দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার রয়েছে।

একদিকে নতুন বাজার সমপ্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে যতই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিজিএমইএ। সরকারের কূটনৈতিক পর্যায়ের জোর লবিংয়ের অভাবে বিশেষ করে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দূতাবাস না থাকার কারণে দেশগুলোতে পোশাক রফতানি করতে পারছেন না রফতানিকারকরা। ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদেশের তৈরি পোশাকের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিএমইএ'র একটি সূত্র।

এশিয়ার অনেক দেশে দূতাবাস থাকলেও বাণিজ্যিক পরামর্শক না থাকার কারণে ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরো কয়েকটি দেশেও পোশাক রফতানির অর্ডার পেয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। কিন্তুু দ্রুত ভিসা প্রাপ্তি এবং দূতাবাসগুলোতে বাণিজ্যিক লবিস্ট না থাকার কারণে খুব সহজে রফতানি করতে পারেছেন না পোশাকশিল্প মালিকরা।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, নতুন বাজার সমপ্রসারণের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় করতে পারবে এ দেশ। ফলে দেশের অর্থনীতি আরো মজবুত হবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন কিন্তুু এখনো কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ আমাদের চোখে পড়েনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলিসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তুু এ বাজার ধরে রাখার জন্য এবং সমপ্রসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের সেদেশগুলোতে যেতে হয়। কিন্তুু আমারা তা পারছি না।

শুধু তৈরি পোশাকই নয়, জানা গেছে, অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানিয়েছে, গত অক্টোবরে রপ্তানি খাতে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৬৮৮ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর নভেম্বরে আয় এসেছে ১ হাজার ৫৫৩ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে রপ্তানি খাত আয় কিছুটা কমলেও, গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রপ্টস্নানি খাতে মোট আয় হয়েছে ৮ হাজার ২৭৫ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৮০ ভাগ বেশি বলে জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন বু্যরো (ইপিবি)।

জুলাই-নভেম্বর দু'একটি পণ্য ছাড়া রপ্তানি খাতের অধিকাংশ পণ্য রপ্তানিতেই বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৮৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলারের। এ খাতে গত বছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নিটওয়্যার খাতে জুলাই-নভেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৬ দশমিক ৯০ শতাংশ।

চামড়া খাতে এ সময়ে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ১০৯ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রবৃদব্দির হার ২৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। হিমায়িত খাদ্যে জুলাই-নভেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৬৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধির হার ৪০ দশমিক ৩০ ভাগ।

তবে রপ্তানি আয় কমে গেছে, ওষুধ খাতে, কাঠ ও কাঠজাতীয় পণ্যে, কসমেটিক্স, রাসায়নিক সার, সিমেন্ট, চা, ফার্নিচার, কাচ ও কাচ সামগ্রী ইত্যাদি পণ্যের। ইপিবি জানিয়েছে, চা খাতে রপ্তানি আয় গত বছরের জুলাই-নভেম্বরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। গত বছর জুলাই-নভেম্বরে আয় হয়েছিল ২ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার। ওষুধ খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ২ শতাংশ। জুলাই-নভেম্বরে এ খাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ১৭ দশমিক ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইপিবি'র দেয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে রপ্তানি আয়ের টার্গেটও ছাড়িয়ে গেছে। এ সময়ে মোট রপ্টস্নানি আয়ের টার্গেট ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ১৪২ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার। প্রকৃত রপ্তানি আয় হয়েছে ৮ হাজার ২৭৫ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার। টার্গেটের তুলনায় আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

রপ্টস্নানি খাতের সংশি্নষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা কেটে যাওয়ায় রপ্তানি খাতের আয় বাড়ছে। এছাড়া বাংলাদেশী পণ্যের বাজারও কিছুটা সমপ্রসারিত হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকার বাইরে এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে রপ্তানি আয় বাড়ছে।
Source: Daily Ittefaq, 11th December

Some Subject (Many post in one subject):

Monday, November 22, 2010

গার্মেন্ট ও তাঁত শিল্প বিপর্যয়ের মুখে ব্যবসায়ীরা হতাশ

সুতার দাম বাড়ছে: গার্মেন্ট ও তাঁত শিল্প বিপর্যয়ের মুখে ব্যবসায়ীরা হতাশ

লাগামহীনভাবে বাড়ছে সুতার দাম। ফলে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে সুতার বাজার। গত এক সপ্তাহে প্রতি পাউন্ড সুতার দাম এক ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় গার্মেন্টসহ দেশীয় তাঁত শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে সুতার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে স্পিনিং মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট সুতার বাজার অস্থিতিশীল করে ফায়দা লুটছে। স্পিনিং মিল মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস বিদ্যুতের অসহনীয় সংকটের কারণে মিলগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সুতার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে দেশের বৃহত্তম সুতার পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজারে সুতার বেচা-কেনা থমকে আছে। সুতা ব্যবসায়ী, গার্মেন্ট মালিক, ও স্পিনিং মিল মালিকসহ বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি বিসিকের নিউ মদিনা ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ আহসানউলাহ জানান, ঈদের আগে প্রতি পাউন্ড কাট (গার্মেন্টে ব্যবহৃত সুতা ) সুতা তিন দশমিক পঞ্চান্ন সেন্ট দিয়ে ক্রয় করেছিলেন। বর্তমানে সেই সুতা বাজারে বিক্রি হচ্ছে চার দশমিক ত্রিশ সেন্টে। এভাবে প্রতিদিন সকালে-বিকেলে সুতার দাম বাড়ছে। যার কারণে নিট গার্মেন্টগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি জানান, তার গার্মেন্টে এক লাখ ছাবি্বশ হাজার পিসের একটি অর্ডার প্রস্তুত করতে বর্তমানে সুতার দর বৃদ্ধির কারণে দশ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বিকেএমইএ'র পরিচালক মনসুর আহমেদ জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি পাউন্ড সুতা বিক্রি হয়েছে দুই দশমিক পঞ্চাশ সেন্টে। যা বর্তমানে প্রতি পাউন্ডে দুই ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। আকস্মিকভাবে সুতার দর বাড়ানোর জন্য স্পিনিং মিল মালিকদের কারসাজি অবিহিত করে তিনি বলেন, এর ফলে দেশের নিট গার্মেন্ট শিল্পে বিপর্যয় নেমে আসবে। দেশের বেশির ভাগ নিট গার্মেন্ট মালিকের পক্ষেই বর্ধিত মূল্যে সুতা ক্রয় করে শিপমেন্ট করা সম্ভব নয়। অনেক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী দেশীয় সুতার দাম বেড়ে যাওয়ার গত এক মাস ধরে ভারত থেকে সুতা আমদানি শুরু করেছেন। বর্তমানে ভারত থেকে কাট সুতা প্রতি পাউন্ড তিন দশমিক পঞ্চাশ সেন্টে আনা যাচ্ছে। মনসুর আহমেদ জানান, ঈদের আগে ছোট ছোট গার্মেন্টগুলো সুতার এলসি বাইরে বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করেছেন। এ সব নিট গার্মেন্টগুলো এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বিকেএমইএ'র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম জানান, সুতার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার কারণে বিকেএমইএ ইতোমধ্যে বিটিএমএ'র সঙ্গে সুতার বাজার দর নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে যেভাবে সুতার দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই যেসব নিট গার্মেন্ট অর্ডার নিয়েছেন তারা এ মুহূতে শিপমেন্ট করলে পুঁজি হারাতে হবে। বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দেশে স্পিনিং মিলগুলো সুতা সরবরাহ করতে পারছে না। বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা জানান, সুতার দর বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশীয় তাঁত শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সরকারিভাবে যদি সুতার বাজার মনিটরিং করা না হয় তাহলে দেশীয় কাপড়ের দাম বেড়ে যাবে। এবং বেশির ভাগ তাঁত শিল্প বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। গতকাল নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের সুতা পট্টি ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সুতার ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতার ঘরে সুতা পাওয়া যাচ্ছে না। সিরাজগঞ্জের কাপড় ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন জানান, সাধারণত রোজার মধ্যে দেশীয় তাঁত শিল্পে চাহিদার কারণে সুতার দাম কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে এবার যেভাবে সুতার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে তাঁতিদের পক্ষে সুতা ক্রয় করে কাপড় তৈরি করা সম্ভব হবে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সুতার বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে দেশের নিট গার্মেন্ট এবং তাঁত শিল্পে ধস নেমে আসবে। এ জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

Source: Daily Sangbad


Some Subject (Many post in one subject):

Thursday, August 26, 2010

এ সময়ের পেশা মার্চেন্টাইজিং

এ সময়ের পেশা মার্চেন্টাইজিং
শাম্মি আখতার
আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিৰার্থিরাই ছেলেবেলা থেকে একটি নির্দিষ্ট পেশাকে লৰ্য রেখে পড়ালেখা করে না বা করতে পারে না। তাই শিৰাজীবন শেষে অনেকে বেকারত্বকে বরণ করে হতাশায় নিমজ্জিত হন। ক্যারিয়ার নিয়ে সারাদিন নানা রকমের চিনত্মাভাবনা করেও কোন কুলকিনারা বের করতে পারেন না। কিন্তু শিৰাজীবনে যারা লৰ্য বা এইম ঠিক করতে পারেননি, তাঁরা একটু সচেতন হলেই পাল্টে দিতে পারেন ভবিষ্যত জীবনটাকে। চাকরি নামক সোনার হরিণটাকে করতে পারেন করায়ত। যারা স্থির স্বভাবের, চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সৰম, ঝুঁকি নিতে মোটেও ভিত নয়, এমন মানুষদের জন্য চমৎকার পেশা মার্চেন্টাইজিং।

পেশার ধরন
এটি একটি দায়িত্বপূর্ণর্ পেশা। ইংরেজী মার্চেন্ট থেকে মার্চেন্টাইজিং শব্দটি এসেছে। যার অর্থ সওদাগরি। মনে একটু খটকা লাগতে পারে। খোলাসা করে বলা যাক। কাজটা হলো এ ধারকা মাল ও ধার। অর্থাৎ কোন পণ্য ক্রেতার পচ্ছন্দ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকারীকে দিয়ে তৈরি করানো। পরবতর্ীতে ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন। তবে এৰেত্রে উলেস্নখ্য যে, আমাদের গার্মেন্টস বা রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পেই এই পেশার চাহিদা ও কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি। পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি আশির দশকের পূর্বে আমাদের দেশে মার্চেন্টাইজিং পেশার কর্মৰেত্র ছিল না। শুধু তাই নয়, এ পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানত না। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি আমাদের পেশে গার্মেন্টস শিল্প স্থাপনের পর থেকে এ পেশার কর্মৰেত্র সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এ পেশার ক্রমন্বয়নও কর্মপরিধী বেড়েছে। বর্তমানে পেশাটি বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত।

কর্মসংস্থানের সুযোগ
বর্তমানে আমাদের দেশের সর্বাধিক কর্মসংস্থানের খাত হলো পোমাক শিল্প। পোশাক শিল্পের উত্তর উত্তর অগ্রগতি হচ্ছে সেই সংগে বাড়ছে এ পেশার অর্থাৎ মার্চেন্টাইজিং পেশার কর্মৰেত্র। গার্মেন্টস ও গার্মেন্টস সংশিস্নষ্ট বায়িং হাউসগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রশিৰত অভিজ্ঞ মার্চেন্টাইজার প্রয়োজন হয়। তাই এ পেশায় কাজ পাওয়ার সুযোগটাও অনেক বেশি। বাংলাদেশ থেকে সারাবিশ্বে তিন ধরনের তৈরি পেশাক রফতানি করে থাকে ওভেন নীট, সোয়েটার। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চামড়া শিল্প রফতানিমুখী হওয়ায় সেখানেও প্রয়োজন মার্চেন্টাইজার। এছাড়া বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের বিভিন্ন ধরনের ৰুদ্র ও কুটির শিল্প রফতানি হতে শুরম্ন করেছে, সেৰেত্রেও প্রয়োজন মার্চেন্টাইজার। অর্থাৎ আমাদের দেশে মার্চেন্টাইজারের কর্মৰেত্রে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা।
মার্চেন্টাইজার হতে যা প্রয়োজন
শুরম্নর দিকে মার্চেন্টাইজার নিয়োগ করা হতো এমন লোকদের যারা বাংলা ও ইংরেজী লিখতে পারে। বিশেষ করে ইংরেজীতে নূ্যনতম গার্মেন্টস সম্পর্কে লিখতে পারলেই হতো। কিন্তু পেশাটি আনত্মর্জাতিক ৰেত্রে যথেষ্ট গুরম্নত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে পরবতর্ীতে নিয়ম পরিবর্তিত হয়। বর্তমানে মার্চেন্টাইজার হিসেবে কাজ পেতে হলে অবশ্যই নূ্যনতম স্নাতক পাস হতে হবে। সেই সংগে ইংরেজী ভাষায় দৰ হতে হবে। যেহেতু মার্চেন্টাইজারকে বেশিরভাগ কাজ করতে হয় বিদেশীদের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাই কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে।
প্রয়োজন প্রশিৰণ
মার্চেন্ডাইজারকে কর্মৰেত্রে নানা বিষয়ে খুঁটিনাটি বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করতে হয় যেমন কাপড় কেমন হবে রং কেমন হবে সুতা সেলাই, বোতাম, সাইজসহ সবকিছু তাই প্রশিৰণ থাকাটা জরম্নরী। প্রশিৰণ থাকলে ছোটখাটো সব ধরনের সমস্যার সমাধান নিজেই পৰেই করা সম্ভব।

কোথায় নেবেন
বর্তমানে ঢাকায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে মার্চেন্টাইজিং বিষয়ে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিৰণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিজেএমইএ (বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফাকচারিং এ্যান্ড এঙ্পোর্ট এ্যাসোসিয়েশন) এ অধীনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিৰণের ব্যবস্থা রয়েছে। মার্চেন্টাইজিং পেশায় যারা ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের জন্য এই প্রশিৰণটি অত্যনত্ম প্রয়োজনীয়। এছাড়া কিছু বায়িং হাউজ ও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্টাইজিং এ স্বল্প মেয়াদী প্রশিৰণের সুযোগ রয়েছে।

উপার্জন:
অন্য অনেক পেশার তুলনায় মার্চেন্টাইজিং পেশায় উপার্জন বেশ ভাল। ছোট মাঝারি বা বড় গার্মেন্টস বাইং হাউজ ভেদে প্রারাম্ভিক বেতন কম বেশি হলেও, দৰতা অর্জনে সৰম হলে খুব অল্প সময়ে পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক পাওয়া সম্ভব। আর যদি আনত্মর্জাতিক মানের বা বহুজাতিক বায়িং হাউস হলে পারিশ্রমিকের পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য সুবিধা তো রয়েছেই।
বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় পেশার অন্যতম মার্চেন্টাইজিং। আধুনিক ও সময়োপযোগী হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর রয়েছে গ্রহণযোগ্য। যাঁরা কাজকে ভালবাসেন তাঁদের বিশ্বমানের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান তাঁদের পেশা মার্চেন্টাইজিং।