Friday, January 4, 2013

জয়পুরহাটের উদ্যমী নারী সেলিনা আকতার জিরো থেকে লাখপতি

জয়পুরহাটের উদ্যমী নারী সেলিনা আকতার জিরো থেকে লাখপতি

















জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
১৪ বছর আগের কথা। জয়পুরহাট শহরের শান্তিনগর মহল্লার বাসিন্দা সেলিনা আক্তার, স্বামী মোশাররফ হোসেন। ৯ বছর ও ১ বছর বয়সের দুই পুত্র সন্তান নিয়ে তাদের সংসার। স্বামী দর্জির কাজ করতো। রেলওয়ে হকার্স মার্কেটে ছোট একটি দোকান মোশাররফের। রেললাইনের উপর গড়ে ওঠা পুরাতন কাপড়ের দোকান থেকে শার্ট-প্যান্ট ও শীতের কাপড় কিনে মানুষ তার কাছ থেকে কেটে ছেটে ফিটিং করে নিত। যা আয় হতো তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলতো তাদের সংসার। সন্তানরাও প্রায়ই থাকে অভুক্ত। অভাবের এই সংসারে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। এরই মধ্যে ১৪ বছর আগে আগুন লেগে পুড়ে যায় জয়পুরহাট হকার্স মার্কেটের অধিকাংশ দোকানপাট। তারটিও রক্ষা পায়নি। তার সর্বস্ব পুড়ে যায়। রক্ষা পায়নি তার সেই সেলাই মেশিনটিও। সর্বস্ব হারিয়ে গোটা পরিবার তখন দিশেহারা। এনজিও জাকস ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে শান্তি নগর এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে ঋণ দিতে শুরু করেছে। এটা ১৪ বছর আগের কথা। জাকসের সিনিয়র ঋণ কর্মকর্তা মাসুদা খানম। তখন তিনি ওই ঋণ কর্মকর্তাকে তার দুঃখের সব কথা খুলে বলেন। কিছুদিনের মধ্যে মাসুদা সেলিনার নামে বিশ হাজার টাকার ঋণের ব্যবস্থা করে দেন। সেই টাকা দিয়ে সেলিনা ২টি সেলাই মেশিন কিনে। আর স্বামী মোশাররফকে সঙ্গে নিয়ে ১০ হাজার টাকার গার্মেন্টসের কাটপিস কিনে আনেন সৈয়দপুর থেকে। স্বামী-স্ত্রী মিলে দু'জনে নব উদ্যমে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে ট্রাউজার তৈরির কাজ শুরু করে। প্রতিদিন তারা দু'জনে ১০০ পিস ট্রাউজার তৈরি করে। আর সেই ট্রাউজারগুলো জয়পুরহাটের মার্কেটে পাইকারি বেচা শুরু করে। তাদের নিপুণ হাতের তৈরি ট্রাউজার বাজারে কদর বাড়তে থাকে। প্রতিদিন তা থেকে তাদের আয় হয় প্রায় ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার দুইশ টাকা। মালের চাহিদা বেড়ে যায়। তখন তারা প্রতিবেশী হতদরিদ্র ৫জন মহিলাকে কাপড় সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেন। তখন সেলিনা ও তার স্বামী মোশাররফ শুধু কাপড় কাটে আর ওই ৫জন নারী ট্রাউজার সেলাই করে। এভাবে তাদের কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। এক বছরের মধ্যে ঋণের ওই টাকা পরিশোধ করে তারা জাকস ফাউন্ডেশন থেকে অরো ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেয়। সেই টাকা দিয়ে ১০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের ১০টি সেলাই মেশিন কিনে দেয়। এভাবে বাড়তে থাকে তাদের ব্যবসার আরো পরিধি। তার প্রতিষ্ঠানের নাম দেয় সৈকত গার্মেন্টস।
এখন তাদের গার্মেন্টসে মোট ৪৫ জন শ্রমিক কাজ করে। এদের মধে ৪১জনই নারী ও ৪জন পুরুষ শ্রমিক। ৪১জন প্রশিক্ষিত নারী শ্রমিক ট্রাউজার শেলাইয়ের কাজ করে। আর ৪জন পুরুষ শ্রমিক কাপড় কাটার কাজ করে। বাকি ৩১জন নারী শ্রমিককে জাকস ফাউন্ডেশন সেলাই মেশিন কেনার জন্য ঋণ দেয়। এই ৪১ জন নারী শ্রমিকের প্রত্যেকের বাড়িতেই এখন সেলাই মেশিন রয়েছে। 
সেলিনা আক্তার জানান, তার নামে এখন জাকস তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছে। তার ক্যাশ প্রায় সাত লাখ টাকা। তাদের ট্রাউজার এখন জয়পুরহাট, নওগাঁ, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, রংপুর, ঢাকা, সিলেট, চিটাগাংসহ দেশের প্রায় সব জায়গাতেই যায়। সেলিনার স্বামী এখন শুধু মার্কেটিং করে। আর সেলিনা তার প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করে। আর তার বড় ছেলে বাবা ও মার কাজে সাহায্য করে। তাদের দেখাদেখি ওই এলাকায় এখন এরূপ ৮টি মিনি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি তৈরি হয়েছে। ওই এলাকার অধিকাংশ বাড়িতেই এখন সেলাই মেশিন রয়েছে। তারা ট্রাউজার সেলাই করে এখন স্বাবলম্বী। তাদের এখন আর অভাব নাই। সেলিনা আকতারের পাশের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সিমা বেগম (৪০) ও তার দুই মেয়ে প্রীতি পারভীন (১৮) ও চৈতি আকতার (১৬) তিনটি মেশিনে তারা ট্রাউজার সেলাইয়ে ব্যস্ত। মা সিমা বেগম জানায়, তার স্বামী অসুস্থ, শয্যাশায়ী। কোন কাজ করতে পারে না। তাই তাদের খুব অভাবের মধ্যে দিন কেটেছে। সেলাইয়ের কাজ শিখে তিনি সাংসারিক কাজের পাশাপাশি ও তার দুই মেয়ে লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে ট্রাউজার সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। এখন প্রতিদিন তারা তিনজন মিলে ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাউজার সেলাই করতে পারে। প্রতিটি ট্রাউজার শেলাই বাবদ তারা ৭ টাকা করে মজুরি পায়। এ থেকে তাদের প্রতিদিন ৩৫০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা আয় হয়। এতে করে তাদের লেখাপড়া খরচ ও সংসার ভালভাবেই চলে। এভাবে ওই এলাকার সবাই এখন স্বাবলম্বী। 
জাকসের কো-অর্ডিনেটর মাইক্রো ফাইন্যান্স আফতাব আলী জানান, ওই এলাকায় সেলাই কজের জন্য তারা প্রায় দেড় শত পরিবারের মধ্যে ১ কোটি ১৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে। যারা ঋণ নিয়েছেন তাদের প্রায় সবাই এখন স্বাবলম্বী। তারা নিয়মিত ঋণ নেয় ও সময়মত তা পরিশোধও করেন। শান্তিনগরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জেলা মৎস্য সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, এক সময় ওই এলাকার অধিকাংশই ছিল হতদরিদ্র। কিন্তু জাকস ফাউন্ডেশনের ঋণের টাকায় এখন ঘরে ঘরে সেলাই মেশিন আর ট্রাউজার সেলাই করে এই এলাকার নারীরা এখন স্বাবলম্বী। ওই এলাকা এখন জয়পুরহাটের মডেল। একজন উদ্যমী নারী সেলিনা আকতার পাল্টে দিয়েছে ওই এলাকার চিত্র। নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন অন্যদেরও করেছেন স্বাবলম্বী। পাশাপাশি ওই এলাকাকে করেছেন আলোকিত।

Wednesday, November 14, 2012

বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার হচ্ছে চীন

বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার হচ্ছে চীন


চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ব্যাপক। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে এ ঘাটতি। কারণ বাংলাদেশ চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও বিপরীতে চীনে তার রপ্তানি খুব সামান্য। চীনের রয়েছে বিস্তৃত উত্পাদন ক্ষেত্র আর বিশাল শিল্প-ভিত্তি। সে তুলনায় বাংলাদেশের পণ্য, বিশেষ করে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা খুব সামান্য। তাই বাংলাদেশ চীন থেকে সুঁই-সুতো থেকে শুরু করে মিলিটারি হার্ডওয়্যার পর্যন্ত হাজার হাজার ধরনের পণ্য আমদানি করে। কিন্তু চীনে দেশটি রপ্তানি করে কেবল হিমায়িত মত্স্য, পাট ও তৈরি পোশাক; তাও সামান্য পরিমাণে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে চীন বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিলেও অবস্থার এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো উন্নতি হয় নি। কারণ সেসব পণ্যের বেশিরভাগই চীনেও তৈরি হয়। তবে সম্প্রতি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাককে ঘিরে। চীন নিজেও তৈরি-পোশাকের একটা বড় উত্পাদক দেশ হলেও শ্রমিকের মজুরি ব্যাপভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে শ্রমঘন এ খাতের উত্পাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তাই চীনের ব্যবসায়ীরা এখন নজর রাখতে শুরু করেছে স্বল্পমূল্যের বাংলাদেশি তৈরি পোশাক খাতের দিকে।
বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য 'চায়না ন্যাশনাল গার্মেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিএনজিএ)'-এর আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করছে। ওই দলের প্রধান এবং সমিতির সহ-সভাপতি ফেং দেহু বলছিলেন, চীনের পোশাকশিল্পের উত্পাদনের বার্ষিক আকার বছরে ৩০ হাজার কোটি ডলারের। এর ৮২ শতাংশ দেশীয় বাজারে বিক্রি হয়। এসব তথ্য উল্লেখ করে চীনের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছিলেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করা সম্ভব এবং শিগগিরই চীন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার হয়ে উঠবে।
সফর সম্পর্কে জানাতে চীনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সেখানেই এসব আশার কথা শোনান ফেং দেহু।
চীনের প্রতিনিধিদলটি এমন সময় তৈরি পোশাকের বিষয়ে সম্ভাবনার কথা শোনালেন, যখন বিশ্বমন্দা ও ঋণসংকটে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমছে, ক্রেতারা কার্যাদেশ বাতিল করছেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইতোমধ্যে চীনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার-সুবিধা পেয়েছে। ফলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানিও বাড়ছে। ২০১১-১২ সালে চীনে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।
ফেং দেহু বলেন, তারা যতটুকু আশা করেছিলেন পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ তার চেয়েও বেশি উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের শিল্প-মালিকেরা কম খরচে অনেক ভালো পণ্য তৈরি করতে পারে।
চীনে একটি বড় ব্র্যান্ডের একজন প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক মানের দিক দিয়ে ভালো এবং দামেও কম। আগামী কয়েক মাসে আমরা বাংলাদেশে অর্ডারের পরিমাণ বাড়াব। চীনের স্যুট তৈরির একটি নামী প্রতিষ্ঠানের আরেকজন প্রতিনিধি জানান, তাঁরা এ দেশে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।
বিজিএমইএ বলছে, মজুরিসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় চীন তাদের পোশাকশিল্প অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে চাইছে। তারা বাংলাদেশে এলে সেটা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
সমিতির সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৮৭ শতাংশই এখনো যায় উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে। এ খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য এটা বেশ ঝুঁকির। এ অবস্থায় ১৩০ কোটি লোকের দেশের চীন বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় বাজার। তিনি বলেন, চীনে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি নির্ভর করছে বাংলাদেশ কতটা দক্ষতার সঙ্গে পোশাক তৈরি করতে পারে তার ওপর।
শুধু বেসরকারি খাত নয়, সরকারও খুব উদ্যোগী চীনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়াতে। বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের বলছিলেনে, চীন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বাজার। চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ কিংবা এ দেশ থেকে আমদানি করতে চাইলে সরকার তাঁদের সব ধরনের সুবিধা দেবে।

Thursday, November 1, 2012

ইউরোপের বাজার দখলে মরিয়া ভারত, চাপে তৈরি পোশাক খাত

ইউরোপের বাজার দখলে মরিয়া ভারত, চাপে তৈরি পোশাক খাত


ঢাকা, ০২ নভেম্বর : বাংলাদেশের রপ্তানিখাতের প্রধান বাজার ইউরোপ দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী ভারত। এ লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। 

এ বছরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এ চুক্তি সই করতে চায় ভারত। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে। এ চুক্তি কার্যকর হলে ইইউভুক্ত দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য রপ্তানির সুবিধা পাবে দেশটি। এটি ভারতের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করলেও তা বাংলাদেশের বিশেষ করে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা রপ্তানিকারকদের। 

পোশাক রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, ভারত এ সুবিধা পেলে ইইউ জোটভুক্ত ২৭ দেশে বাংলাদেশের অন্তত ৩০ শতাংশ রপ্তানি আয় কমবে। শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণেই রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে প্রতিযোগিতায় টিকে আছে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার ইইউ।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই সমপ্রতি ওই দেশের পররাষ্ট্র সচিব এসআর রাওকে উদ্বৃত করে জানায়, ইইউর সঙ্গে এফটিএ করার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জানা গেছে, আলোচিত এই এফটিএ চুক্তি কার্যকর হলে এর আওতায় ভারত ইইউভুক্ত দেশে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের মতো শুল্কমুক্ত রপ্তনি সুযোগ বা জিএসপি সুবিধা পাবে। ফলে তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত খুব দ্রুত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। এতে বাংলাদেশকে আরও অনেক বেশি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৃহত্তর প্রতিযোগী হিসেবে এ বিষয়টি বাংলাদেশকে চাপে ফেলবে। 

তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজারের শীর্ষ দশ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান দ্বিতীয়। আর ভারতের অবস্থান পঞ্চম। বর্তমানে মোট রপ্তানি আয়ের ৫৭ শতাংশ আসে ইইউ বাজার থেকে। গত বছর জানুয়ারিতে দ্বি-স্তর থেকে এক স্তরের রফতানি সুবিধায় ইউরোপজুড়ে মন্দা সত্ত্বেও পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

সমপ্রতি এমসিসিআই আয়োজিত এক সেমিনারে ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা সফল হলে এ দেশের পোশাক রপ্তানি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এমনকি এ চাপে দেশের পোশাক রপ্তানি ২৫-৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি এখনই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, দেশে তৈরি পোশাক খাতে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১২ শতাংশ। অন্যদিকে ক্রেতারা পোশাকের দাম আগের চেয়ে কমিয়েছেন। এ ধরনের অনেক সমস্যার মুখোমুখি এখন পোশাক খাত। তবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উৎকণ্ঠার বিষয় হচ্ছে ভারতের সঙ্গে ইইউর দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। তিনি বলেন, যতদূর জেনেছি, এ নিয়ে উভয় পক্ষের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের শেষার্ধে অথবা আগামী বছরের শুরুতে এ চুক্তি কার্যকর হতে পারে।
ভারতের এফটিএ সুবিধাপ্রাপ্তির সম্ভাবনা ছাড়াও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে এ দেশের তৈরি পোশাক খাত চাপে রয়েছে বলে মহিউদ্দিন জানান। 

November 1, 2012

Wednesday, February 22, 2012

‘রাশিয়ায় তৈরি পোশাকের বাজার খোঁজা হচ্ছে’

‘রাশিয়ায় তৈরি পোশাকের বাজার খোঁজা হচ্ছে’

পাকিস্তান ইইউতে রফতানির ক্ষেত্রে ৭৫টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে৷ এর মধ্যে বাংলাদেশের আপত্তি করা তৈরি পোশাক খাতের পাঁচটি পণ্য রয়েছে৷ ইইউতে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা৷
এ ব্যাপারে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ'র দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তান সুযোগটা পেয়েছে দুই বছরের জন্য৷ বন্যা সহ অন্যান্য কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি খারাপ হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে স্বল্পোন্নত দেশ না হলেও পাকিস্তানকে এই সুবিধা দেয়া হচ্ছে৷ এতে বাংলাদেশের পোশাক খাতে সামান্য হলেও প্রভাব পড়বে বলে জানান সিদ্দিকুর রহমান৷ তবে অন্য দিক দিয়ে সেই ক্ষতিটা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি৷
রহমান বলেন, বাংলাদেশ গত বছর পোশাক খাত থেকে প্রায় আঠারশো কোটি ডলার আয় করেছে৷ এর শতকরা ৬০ ভাগ এসেছে ইইউ থেকে৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে জার্মানিতে৷
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশের গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে ইউরোপের আর্থিক মন্দা৷ ফলে ব্যবসা ভাল হচ্ছে না৷
তবে তিনি বলেন, নতুন নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে৷ বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলের মতো দেশে বাংলাদেশের পোশাকের বাজার হচ্ছে বলে জানান তিনি৷ এছাড়া রাশিয়াতেও ঢোকার চেষ্টা চলছে বলে জানান বিজিএমই'র এই কর্মকর্তা৷
প্রতিবেদন: জাহিদুল হক
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূ

Wednesday, March 30, 2011

ডেনিম ড্রিম: লক্ষ কোটি টাকা আয়ের হাতছানি

ডেনিম ড্রিম: লক্ষ কোটি টাকা আয়ের হাতছানি

আরাম আর স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠা ক্যাজুয়াল জিন্স, জ্যাকেট ও নানা ডেনিমওয়্যার বিশ্ববাজারের পোষাক বিক্রির উল্লেযোগ্য অংশ। স্বাচ্চন্দ্যের সুবিস-ৃত এই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ একটি অনিবার্য অনুষঙ্গ।

ইউরোপ আমেরিকার কোন কিশোর, তরুন বা প্রৌঢ়ের পরিহিত জিন্সটির ভেতরে নির্দিষ্ট স্থানে একটি ছোট লেবেলে মেড-ইন-বাংলাদেশ- এতো খুবই সাধারন এখন।

ডেনিমওয়্যারের পরিমানগত রপ্তানীতে চিনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। চাট্টিখানি কথা নয়- সারা বিশ্বে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় পণ্যের দ্বিতীয বৃহত্তম উৎপাদক বাংলাদেশ!

আট হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বিশ্ববাজার ডেনিম পোষাকের, আর সেখানে বাংলাদেশের ডেনিম পোষাক রপ্তানী প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি মার্কিন ডলার।

গড়ে কম মূল্যের ডেনিম পোষাক রপ্তানী করে বলেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হওয়া স্বত্বেও বিশ্ব ডেনিম বাজারে তার শেয়ার শতকরা চার শতাংশেরও কম। তুরস্ক, তিউনিশিয়া বা মেস্কিকোর মতো উন্নত ও দামি ডেনিমের ফ্যাশন জিন্স রপ্তানী করতে পারলে বর্তমান পরিমানেই আয় হতো এখনকার দ্বিগুণ। পরিমান বাড়লে আরো শত কোটি বা হাজার কোটি মার্কিন ডলার আয় হতো।

এমন সপ্ন বোধহয় আর সুদূর পরাহত নয়। বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের সামপ্রতিক সমপ্রসারণ আর মূল্য-সংযোজন প্রচেষ্টায় উঁিক দিচ্ছে এক ডেনিম ড্রিম, এক উজ্জ্বল আগামী।

মাসখানেক আগে ভারতীয় ডেনিম উৎপাদক অরবিন্দ যখন কুিমল্লা ইপিজেড একটি আধুনিক ডেনিম কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেয়, তখন ব্যাপারটি সবার দৃষ্টিতে আসে। ভেতরে ভেতরে স্থানীয় উৎপাদকেরাও সমপ্রসারণ আর আরো উন্নত ডেনিম তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আছে বিশের অধিক ডেনিম কারাখানা। এর অর্ধেকেরও বেশি এখন উৎপাদন ক্ষমতা সমপ্রসারনে নেমে গেছে। আরো আধুনিক ডেনিম-ফ্যাশন ডেনিম বা প্রিমিয়াম ডেনিম- উৎপাদনের জন্য আধুনিক মেশিনারী স্থাপন করছে।

গত ৫-৭ বছরে স্থাপিত হওয়া ডেনিম কারখানাগুলো বেশিরভাগ এমনিতেই অনেকটা অগ্রসর প্রযুক্তি নিয়ে স্থাপিত। এখন আরো অগ্রসর প্রযুক্তি আসছে। দেশের বৃহত্তম পারটেক্স ডেনিম এর উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে উদ্যোক্তা। আগামী বছরেই মাসিক ৫০ লক্ষ গজ উৎপাদন ক্ষমতায় গিয়ে এটি হবে এশিয়ার বৃহৎ ডেনিম মিলগুলোর একটি।

পারটেক্স ডেনিম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বর্ধিত চাহিদার নিরিখেই প্রকল্প সমপ্রসারণ হচ্ছে। তার মতে, উৎপাদন খরচ আরো বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে পড়ে চিনা রপ্তানীকারকেরা যখন বায়ারদের অর্ডার ঠিকমত দিতে পারছেন না, তখন তারা অর্ডার বাড়াতে চাচ্ছে বাংলাদেশে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানী পণ্য ডেনিমওয়্যার এর ভবিষ্যত আরো ভালো দেখেই তারা বিশাল বিনিয়োগের সাহস করেছেন। ''শুধু গ্যাস আর বিদু্যতের নিশ্চয়তা যদি দিতে পারতো সরকার আরো তবে অনেক বেশি সাহসী হওয়ার সাহস ছিলো বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের।" বললেন, রাসেল, যিনি স্বাগত জানান অরবিন্দকেও।

বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম ডেনিম উৎপাদক, অরবিন্দ এর সিইও, আমির আখতার বলেন, বাংলাদেশের ডেনিমওয়্যার উৎপাদকদের তারা ডেনিম কাপড় সরবরাহ করে আসছিলেন ভারত থেকে। স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে এবার তাদের ক্রেতাদের চাহিদা মিটবে। অরবিন্দ কুমিল্লায় তাদের কারখানার পাশে ডেনিমওয়্যার সেলাই কারখানাও করবে লিভাইস ও ডিজেল এর মতো বিখ্যাত ব্রান্ডগুলোর জন্য।

আরগন ডেনিম ও ইভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান, আনওয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এতোদিন বাংলাদেশের পরিচিতি ছিলো শুধু কমদামী ও বেসিক ডেনিমের সস-া জিন্স ও ডেনিমওয়্যারে। দু'এক বছর ধরে ক্রেতারা কিছু দামি ফ্যাশন ডেনিম ও প্রিমিয়াম ডেনিম এর অর্ডার দিয়ে পরীক্ষা করেছেন আর সে পরীক্ষায় পাশ করেছেন আমাদের রপ্তানীকারকেরা। ক্রমশ আস্থা বাড়ছে, আরো উজ্জ্বল হচ্ছে অধিক মূল্য-সংযোজিত ডেনিমের সম্ভাবনা।

বত্রিশ বছর আগে আগে আমেরিকান এক আমদানীকারকের উদ্দেশ্যে কয়েক হাজার ডলারের এক কনসাইনমেন্ট শার্ট রপ্তানী দিয়ে শুরু হয়েছিলো বাংলাদেশের পোষাক রপ্তানীর অভিযাত্রা। শার্ট দিয়ে শুরু হলেও কয়েক বছর পরেই বটমস বা ট্রাউজার হয়ে উঠে শীর্ষপণ্য। বিগত অর্থবছরে তৈরী পোষাক শিল্পই এনেছে মোট রপ্তানী আয়ের প্রায় আটাত্তর শতাংশ- সাড়ে বারোশ' কোটি মার্কিন ডলার বা সাতাশি হাজার কোটি টাকা। এখন ডেনিম শিল্পের অভিযাত্রা সফল হলে এ দশকেই বাৎসরিক লাখ কোটি টাকা আয় হতে পারে শুধু ডেনিমওয়্যার দিয়েই।
গ্যাস-বিদু্যত হলে লাখ কোটি টাকার ডেনিমওয়ার রপ্তানী আয় নিশ্চিত করা আকাশ কুসুম কিছু নয়। বিজিএইএ প্রেসিডেন্ট ও এনভয় ডেনিমের এমডি আব্দুস সালাম মুর্শেদীও ডেনিম ড্রিম এর সওয়ার। তার মতে ''বাংলাদেশী সাপ্লায়ার্স ক্যান ডু" এই আস্থা এখন বিশ্বজুড়ে। এই আস্থা অর্জন করেছে আমাদের শ্রমিক আর উদ্যোক্তারাই।

Friday, March 11, 2011

Garments is Bangladesh

Garments Business is largest trade of Bangladesh. Throw this business Bangladesh earn 67% national income. This is only one business where do work large number of woman labour. Gas problem is a big threat of this business. Due to out-force influence destructive labour movement is one of big problem of this business. These problem is not unsolvable. Any one can say about this here, Please.

Friday, February 11, 2011

তৈরি পোশাকের নতুন বাজার অর্থনীতির জন্য শুভসূচক

তৈরি পোশাকের নতুন বাজার অর্থনীতির জন্য শুভসূচক
০০ অর্কপ্রভ দেব

বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে রফতানির মাধ্যমে ১,০২৬ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয় হয়েছিল প্রায় ৭২৮ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ৪১ শতাংশ। গত বছর বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশ রফতানিতে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ একটি এবং বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। গত বছর বিশ্ব রফতানিতে ১২ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ৪১ শতাংশ ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বরাবরের মতো গত ছয় মাসেও রফতানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে তৈরি পোশাক খাত তথা নিট ও ওভেন পোশাক রফতানি থেকে। বিশ্বব্যাপী যখন অর্থনৈতিক মন্দার লো হাওয়া বইছে, বিশ্ব প্রবৃদ্ধি যখন নিম্নমুখী, বিশ্বের আমদানি-রফতানির পরিমাণ যখন কমছে, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি তেলসহ জিনিসপত্রের দাম যখন বাড়ছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ায় অনেক স্বল্পোন্নত দেশ যখন চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য আমদানির সাহস করছে না তখন বাংলাদেশ স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একটা স্বল্পোন্নত দেশের জন্য এ এক বিরল অর্জন। এর ফলে চলতি অর্থবছর দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশ হবে বলে অর্থনৈতিক বিশেস্নষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও বেশ স্থিতিশীল। বিশ্বে একমাত্র চীন ও ভারতই এর চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০১০ সালে চীনের প্রবৃদ্ধি ১০.৩ শতাংশ এবং ভারতের প্রবৃদ্ধি ৯.৪ শতাংশ। তারপরও চীন ও ভারতের রফতানি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে। মাত্র সাত হাজার মার্কিন ডলার রফতানি হয়েছিল সে বছর। সাহসী উদ্যোক্তা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পরবর্তী দেড় দশকে খাতটির তেমন অগ্রগতি হয়নি। ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে আয় হয়েছে মাত্র ৬২ কোটি ডলার। ইতোমধ্যে প্রথম প্রজন্মের একদল নবীন উদ্যোক্তা এ খাতে বিনিয়োগ শুরু করে। ফলে পরবর্তী পাঁচ বছরে রফতানি আয় কয়েক গুণ বাড়ে। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রফতানি আয় ২২৩ কোটিতে উন্নীত হয়। তারপর থেকে এ খাতকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। যদিও ১৯৯৩-৯৫ সময়ে জিএসপি জালিয়াতির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জিএসপি সুবিধা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। ১৯৯৬'র সরকার এর শান্তিপূর্ণ সমাধান করে। তারপর থেকে প্রতি বছর ২০ শতাংশের বেশি হারে বেড়েছে তৈরি পোশাক রফতানি। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে রফতানি আয় হয়েছে ১,২৫০ কোটি ডলার। চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক খাতে আয় হয়েছে ৭৯৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৫৫৯ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪২.২ শতাংশ। আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ১৯৯০'র দশক পর্যন্ত গার্মেন্টস খাতের আয়ের সিংহভাগ আসতো ওভেন পোষাক তথা শার্ট, ট্রাউজার, সু্যয়েটার প্রভৃতি থেকে। ১৮৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে নিট পোশাক তথা টি-শার্ট, আন্ডারগার্মেন্টস প্রভৃতি থেকে আয় বাড়তে থাকে। এক সময় এ আয় ওভেন পোশাকের আয়কে ছাড়িয়ে যায়। গত অর্থবছরে নিট পোশাক থেকে আয় হয়েছে ৪৩১ কোটি ডলারের বেশি। আর ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৩৬৪ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে নিট পোশাক থেকে এসেছে ৪৩১ কোটি ডলার। আর ওভেন পোশাক থেকে এসেছে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার। নিট পোশাক তৈরিতে দেশীয় মূল্য সংযোজনের হার ওভেনের তুলনায় বেশি। তাই নিট পোশাক রফতানি বৃদ্ধি মানে দেশের অর্থনীতির জন্য আরো শুভসূচক।
১৯৯০'র দশকে রফতানির বিপরীতে সরকারের ক্যাশ ইনসেনটিভ প্রদান এবং পরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও আর্থিক প্রণোদনা, দেশীয় উদ্যোক্তাদের সাহসী উদ্যোগ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডবিস্নউটিও), ইইউসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রফতানির পক্ষে নীতি প্রণয়নে সরকারের সফল দরকষাকষি সবকিছুই বাংলাদেশের পক্ষে গেছে। ২০০৫ সাল থেকে ইইউতে জিএসপি প্রথা চলে যাবে, বাংলাদেশ কম শুল্কে রফতানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমে যাবে এমন আশঙ্কাও পরবর্তীতে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৮ সালে মন্দা দেখা দেয়ার পর তৈরি পোশাক রফতানি কমে যাবে এমনটাও অনেকে আশঙ্কা করেছিল। অবশ্য এ আশঙ্কা অমূলক ছিল না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির প্রায় ৯৪ শতাংশ হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। আর মন্দার প্রভাবও এ সব দেশেই বেশি। বাস্তবে বিপরীত ফলই এসেছে। দেশের প্রায় পাঁচ হাজার গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক যাদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী তাদের জন্য এটি একটি বড় পাওয়া। এটি সরকারের জন্য স্বস্তির। আর পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের জন্য হাঁফ ছেড়ে বাঁচার মতো অবস্থা। বাংলাদেশের পোশাক এখন বিশ্ববাজারে সমাদৃত। ইইউতে কোনো কোনো ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। ডবিস্নউটিও'র তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের দুই নম্বর গার্মেন্টস রফতানিকারক দেশ। চীনের সাথে বাংলাদেশের পার্থক্য অনেক বেশি হলেও শ্রমের মজুরিসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চীনের চেয়ে ভাল অবস্থায় আছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের প্রধান রফতানি বাজার। এ সব দেশে ২০০৮ সাল থেকে মন্দা অব্যাহত থাকায় সহজেই ধরে নেয়া হয়েছিল বাংলাদেশের রফতানি কমবে। মন্দার কারণে সেসব দেশে চাহিদা কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশের রফতানি কমেনি। ২০০৯ সালে রফতানিসহ বাংলাদেশের রফতানি বাজারগুলোতে দামি পোশাকের চাহিদা কমেছে। তাই চীন, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে। জনগণের জীবনমান বৃদ্ধির ফলে এ সব দেশে শ্রমের মজুরি বেড়ে গেছে। তাই তারা বেশি মূল্য সংযোজিত পোশাক যেমন জ্যাকেট, বেস্নজার, সুু্যট প্রভৃতি উৎপাদনে মন দেয়। শার্ট. টি-শার্ট, ট্রাউজার, আন্ডারগার্মেন্টস ইত্যাদিতে শ্রমিকের মজুরি দিয়ে তেমন লাভ হয় না দেখে গত ৫/৭ বছরে তারা এ সব পোশাক উৎপাদন এক রকম ছেড়েই দিয়েছে। মন্দার কারণে উন্নত দেশের ভোক্তারা এখন দামি পোশাকের পরিবর্তে সস্তা পোশাক কিনছে। তাই বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, লাউস, আফ্রিকার কয়েকটি তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশের এখন পোয়াবারো। বাংলাদেশের গার্মেন্টস উৎপাদন ক্ষেত্রটি বড় বিধায় রফতানি বেশি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর মন্দা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের পদক্ষেপগুলো থেকে কিছু কিছু ফল আসলেও এখনো বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তারপরও এ খাতের বিশ্ববাজারের মাত্র তিন শতাংশ বাংলাদেশের দখলে। রফতানি বাড়ানোর বহু সুযোগ এখনো আছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সাল থেকে আফ্রিকান গ্রোথ এন্ড অপোরচুনিটি আ্যাক্ট, ২০০০ অনুযায়ী আফ্রিকার প্রায় ৪০টি দেশকে এবং ক্যারিবিয়ান বেসিন ইকোনোমিক রিকোভেরি অ্যাক্ট ১৯৮৩ এর আওতায় প্রায় ২০টি ক্যারিবীয় দেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ২০০৬ সালে ক্যারিবীয় দেশগুলো থেকে ২,৫০০ কোটি ডলার এবং আফ্রিকার দেশগুলো থেকে ৩,৬০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। যার মধ্যে তৈরি পোশাকও আছে। এর ফলে এ দুটি অঞ্চলের অনেক দেশ তৈরি পোশাক রফতানি বাজারে জোরালোভাবে আসতে শুরু করেছে। এ সব দেশ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশের বাজারেও প্রবেশ করছে। বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়নি। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশকে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দিনে দিনে এ প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং তা গোটা অঞ্চলেই বিস্তৃত হবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত রফতানি সুবিধা আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার সৃজনের দুর্বার চেষ্টা চালাতে হবে।

সার্ক মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় ভারত বাংলাদেশকে কিছু শর্তসাপেক্ষে শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা দেয়ার কথা। বহু আলোচনার পর ভারত ২০০৮ সাল থেকে বছরে ৮০ লাখ পিস তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা বেঁধে দেয়। ভারতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্য বাংলাদেশ ২০০৮ ও ২০০৯ সালে নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে পারেনি। ২০০৮ সালে নির্ধারিত কোটার ২৩ শতাংশ এবং ২০০৯ সালে ৩৭ শতাংশ পোশাক রফতানি করতে সমর্থ হয়েছে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের ফলে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বড় বড় সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি কোটা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রফতানির জটও খুলেছে। ২০১০ সালের পুরো কোটা অক্টোবর মাসের মধ্যেই রফতানি করা হয়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কোটা নির্ধারণী আলোচনার সময় ভারত সম্মত হয়েছিল যে, বাংলাদেশ কোটা পূরণ করতে পারলে পর্যায়ক্রমে কোটা বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয়া হবে। এ অঙ্গীকার পূরণের জন্য দ্রুত আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। ভারতে এখন ২,৮০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের বাজার আছে এবং প্রতি বছর এ চাহিদা ১৮ শতাংশ করে বাড়ছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের সাথে সাথে তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ানোর পথও সুগম হতে পারে। দেশভিত্তিক রফতানি তথ্য বিশেস্নষণ করলে দেখা যায়, রফতানি বাজার সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, সংযুক্ত আরব আমীরাত, হংকং এবং ল্যাটিন আমেরিকার ব্রাজিল ও চিলিতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।
সারণী অনুযায়ী প্রতিটি দেশেই রফতানি প্রতি বছর বাড়ছে। কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো প্রত্যেকেরই বাজার চাহিদা বেশি এবং প্রতি বছরই তা বাড়ছে। এ সব দেশে ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশ প্রচুর রফতানি করছে। আমাদের দরকার এ সব দেশের বাজার চাহিদা অনুধাবন করা। আমদানিকারকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করা। তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক তৈরি করা। এ জন্য রফতানিকারকদের তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে। এ সব দেশে ঘন ঘন প্রতিনিধিদল পাঠাতে হবে। আলোচনা-দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমদানিকারক তথা ভোক্তার চাহিদাকে মূল্য দিতে হবে। তাদের চাহিদামতো উৎপাদন করতে হবে। তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারকদের বাজার সম্প্রসারণ প্রচেষ্টায় সরকারের উৎসাহ প্রদান প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করতে হবে। মিশনগুলোকে আরো বাণিজ্য-বান্ধব করে তুলতে হবে। তবেই তৈরি পোশাক রফতানি বাজার সম্প্রসারণের যে নবদুয়ার উন্মোচিত হয়েছে তা আরো বিস্তৃত ও চওড়া করা সম্ভব হবে। শ্রমঘন এ খাতটির প্রসার টেকসই করার জন্য অগ্র-পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পে স্বয়ংস্পূর্ণ হওয়ার উদ্যোগ গ্রহণসহ একটি জাতীয় পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

রফতানি আয় (কোটি ডলারে)

দেশ ২০০৬-০৭ ২০০৭-০৮ ২০০৮-০৯ ২০০৯-১০
কানাডা ৪০.৮৬ ৪৬.৭৮ ৫৮.৭০ ৫৯.৫৫
জাপান ২.০৯ ২.৮০ ৭.৪৪ ১৭.৩৩
অস্ট্রেলিয়া ১.০৪ ২.১৯ ৪.৯৩ ৮.৫৬
মেক্সিকো ৪.৬৭ ৬.০৫ ৮.১৯ ৬.১৪
ব্রাজিল ০.৫০ ১.৬৪ ৩.৯৬ ৪.৫২
আরব আমীরাত ০.৭২ ১.৫০ ২.৭৬ ৩.৪৫
হংকং ১.৪০ ১.৯৭ ২.৩০ ২.৫৭
ভারত ০.২৮ ০.৫০ ১.০৯ ১.২৫

Some Subject (Many post in one subject):