Saturday, June 15, 2013

পড়ার বিষয় গার্মেন্টস ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং

- নাহিদ হাসান

বস্ত্রশিল্পের বিকাশে গার্মেন্টস বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ল্ড শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্পিনিং মিল, ডাইং ফিনিশিং মিল, নিট কম্পোজিল মিল। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে উত্পাদিত পণ্যকে গুণগত মানসম্পন্ন ও সমৃদ্ধশালী করার জন্য যারা শ্রেষ্ঠ অবদান রেখেছেন, তারা হলেন গার্মেন্টস বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। বাংলাদেশে প্রায় ৪,৮০০টি গার্মেন্টস এবং ১,২০০টি বায়িং হাউস আছে। বর্তমানে ডিপ্লোমা ইন গার্মেন্টস ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আর এ কারণে বাধ্য হয়ে অন্য শিক্ষায় শিক্ষিত লোকদের এ ফিল্ডে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বস্ত্র শিল্পে উন্নয়ন পরিকল্পনা যা ইতোমধ্যে সরকার হাতে নিয়েছে তাতে আগামী তিন বছরে প্রয়োজন হবে ২৫,০০০ জন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। আর বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা দুই হাজারেরও কম। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই ফিল্ডে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

শিক্ষার্থীদের কাজের ক্ষেত্র :টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে রয়েছে চাকরির বিশাল বাজার। সরকারি-বেসরকারি দুটি ক্ষেত্রেই রয়েছে চাকরির বিশাল ক্ষেত্র। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত দেশি-বিদেশি টেক্সটাইল মিল, বিভিন্ন বায়িং অফিস, বুটিক হাউস, ফ্যাশন হাউস, গার্মেন্টস শিল্পে কাজের রয়েছে অবারিত সুযোগ। যেকোনো টেক্সটাইল বায়িং অফিস, বুটিক হাউস, ফ্যাশন হাউস, গার্মেন্টস শিল্পে ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে উত্পাদন কার্যক্রমের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করে যেতে হয় এই ইঞ্জিনিয়ারদের। মূলত টেক্সটাইল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যেকোনো ছোট-বড় টেক্সটাইল বা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির পণ্য উত্পাদন কার্যক্রমের প্রাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

বিভিন্ন কম্পোজিট শিল্প, স্পিনিং, উইভিংসহ গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করে থাকেন। সেই সাথে বিভিন্ন ব্যাংক এবং ঋণ প্রদানকারী সংস্থাসমূহে শিল্প ঋণ বিতরণ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ রয়েছে। ফলে তাদের জন্য বিশাল কাজের ক্ষেত্র উন্মুক্ত হয়ে আছে। যার ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহে গার্মেন্টস ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং বিষয়ের শিক্ষার্থীদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এ বিষয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহীরা বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :রূপসী, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ফোন :০১৭৩১০০৬৯৮৯, ০৪৪৭৮৯১২৩৪৮। যাতে নিশ্চিত চাকরির সুযোগ রয়েছে এ ছাড়াও ডিপে¬ামা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, শিপ বিল্ডিং টেকনোলোজি, টেক্রটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, গ্ল¬াস টেকনোলোজি, সার্ভেয়িং, সিরামিকস টেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে।

Source: www.ittefaq.com.bd


Related All Subject (Many post in one subject): 

Wednesday, May 22, 2013

Garments Design & Pattern Making Technology

Garments Design & Pattern Making Technology

গার্মেন্টস ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং মূলতঃ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটা অংশ আর এ জন্য এর কর্মক্ষেত্রটা অনেক ব্যাপক। মানুষের তিনটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে বস্ত্র অন্যতম। এই বস্ত্রকে বিভিন্ন আঙ্গিকে নতুন নতুন ভাবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বের সকল মানুষের পছন্দের পোষাক তৈরি করাটাই Garments Design and Pattern Making এর কাজ। Fashion মূলতঃ পরিবর্তনশীল তাই দক্ষ প্রকৌশলী ও ডিজাইনার ছাড়া সারা দুনিয়ার এই চাহিদা মিটানো সম্ভব নয়। মূলত গর্ামেন্টস শিল্পে অভূতপূব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে কেবল মাত্র কম শিক্ষিত লোকজনই এই শিল্পে চাকরি করে থাকে। না, আমরা বলতে চাই এই শিল্পে টেকনিক্যাল এবং ডিজাইন সংশ্লিষ্ট পোস্টের কাজ গুলি সবচেয়ে বেশি বেতনে বিদেশ থেকে এস কাজ করে থাকে।এই সেক্টরে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে শুধু তাই নয় আগামী ১০বছরেও দক্ষ গার্মেন্টস ডিজাইন ও প্যাটার্ন মেকিং এর চাহিদা শেষ হবে না। এই শিল্প থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে।

Garments Design and Pattern Making প্রয়োজনীয় ল্যাব সমূহঃ

  • CAD Lab
  • Pattern Making Lab
  • Sewing Lab
  • Testing Lab
  • Cutting Lab
  • Computer Lab
  • Physics & Chemistry Lab

কর্মক্ষেত্র সমূহঃ

  1. বাংলাদেশের Garments Industry গুলোতে এবং Manufacturing Unit এ রয়েছে বিশাল চাকুরির ক্ষেত্র। এই বিভাগ গুলোতে Designer Assistant Cutting Officer, Sketching Assistant, Junior Designer হিসাবে রয়েছে অনেক চাকরির সুযোগ।
  2. Marketing and Merchandising বিভাগে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে Garments এর Fashion বিভাগে Marketing Officer এবং Assistant Merchandising Control Manager হিসেবে রয়েছে চাকুরির সুযোগ।
  3. Manufacturing Department: Manufacturing বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটে Assistant Production Manager পদে রয়েছে কাজ করার অফুরন্ত সুযোগ। এই ইউনিটগুলো (১) Pattern Grading (2) Spreading (3) Marking to cutting (4) Assembling (5) Trainer for worker
  4. Fashion Coordinators: এই বিভাগে বায়ার এবং Production Manager কে সাহায্য করার জন্য Assistant coordinators পদে তৈরী হয়েছে চাকরির সুযোগ
  5. সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি Handloom/Textile Manufacture বিভাগে Assistant Manager হিসাবে রয়েছে অফুরন্ত চাকরির সুযোগ।

Sunday, March 24, 2013

গলনার চরে মিনি গার্মেন্টস সমবায় সমিতি

গলনার চরে মিনি গার্মেন্টস সমবায় সমিতি


খালিদ হাসান মোর্শেদ, গাইবান্ধা করেসপন্ডেন্ট॥ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের যমুনা নদী বেষ্টিত প্রত্যন্ত চরের গ্রাম গলনা। যোগাযোগ বঞ্চিত পিছিয়ে পড়া গ্রামের ২০ জন প্রান্তিক নারীর সমন্বিত প্রচেষ্টা আর অক্লান্ত শ্রমের ফসল গলনা মিনি গার্মেন্টস সমবায় সমিতি। যা এখন এই চরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আর বঞ্চিত নারীদের ঐক্যবদ্ধ আত্মনির্ভরতা আর কর্মসংস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
নদী বেষ্টিত এই গলনা ছ্ট্টো একটি গ্রাম যেখানে ২শ’ পরিবারের মাত্র ৯শ’ লোকের বসবাস। এর মধ্যে শতকারা ৫২ ভাগ নারী। সনাতন সামাজিক রীতিনীতি নির্ভর কুসংস্কারাচ্ছন্ন এই গ্রামীণ সমাজে নারীরা অবহেলিত নির্যাতিত। দারিদ্র্য যেখানে মানুষের জীবন যাপনকে দু:সহ এবং কষ্টসাধ্য করে তুলেছে। সেই গ্রামের নারীদের ভাগ্যের উন্নয়নের সূত্রপাত হয় ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এসকেএস ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে চরাঞ্চলের অবহেলিত নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অক্সফ্যামের সহযোগিতায় রি-কল প্রকল্পের কার্যক্রমের মাধ্যমে।
প্রকল্পের আওতায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ২০ জন নারীকে মিনি গার্মেন্টস বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নারীরা গলনা মিনি গার্মেন্টস সমবায় সমিতি গঠন করে।
অত:পর উপকরণ, কাপড় এবং প্রয়োজনীয় মেশিন ক্রয়ের জন্য প্রকলেÍ আওতায় ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ঋণ প্রাপ্ত হয়।
এই থেকেই শুরু আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলা। রুক্ষ্ম ধূসর বালুময় চরে শুরু হয় মিনি গার্মেন্টস এর উৎপাদন। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ২০ জন নারী তাদের সহযোগি শ্রমিকদের নিয়ে শিশুদের পোশাক, মেয়েদের জামা, ব্লাউজ, পেটিকোটসহ অন্যান্য পোশাক তৈরি শুরু করে। রি-কল প্রকল্পের সহযোগিতায় উৎপাদিত এসব পোশাকের ক্রেতাও জুটে যায়।
ফলে গলনার চরের নারীদের উৎপাদিত উন্নতমানের এবং স্বল্প মূল্যের পোশাক এখন বিক্রয় হচ্ছে পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায়। এছাড়া জেলার ফুলছড়ি, সাঘাটার বাদিয়াখালী, ভরতখালী, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে। গলনা মিনি গার্মেন্টস সমবায় সমিতির সভাপতি রাশেদা বেগম বলেন, উৎপাদনে নিয়োজিত নারীরা যেমন এ থেকে লাভবান হতে শুরু করেছে।
পাশাপাশি এই মিনি গার্মেন্টসে কাজ করে গলনা গ্রামের ৭৫ জন নারী শ্রমিক প্রতিদিন ১শ’ ৫০ থেকে ২শ’ টাকা আয় করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এ থেকে প্রত্যন্ত এ চরাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে কর্মের সংস্থান।

Thursday, March 14, 2013

পোশাক শিল্পে চাকরির সুযোগ

পোশাক শিল্পে চাকরির সুযোগ


গার্মেন্টস শিল্পে বায়িং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে উচ্চ বেতনে সম্মানজনক চাকরি করার সুযোগ আমাদের দেশে অনেক আগে থেকে রয়েছে। কিন্তু এই সংশ্লিষ্ট ডিগ্রিধারী আমাদের দেশে না থাকায় দেশের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বেশির ভাগ অংশই বিদেশে চলে যাচ্ছে। এর ফলে পোশাক শিল্পে ক্যারিয়ার গড়তে চালু হয়েছে মার্চেন্ডাইজিংয়ের মতো বিষয় নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি।

বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে আজকাল সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও চাকরি পাচ্ছে না দেশের অসংখ্য শিক্ষিত তরুণ-তরুণী। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নিতে হয় বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ। যার ফলে বেকারত্ব ঘুচানো অনেক সহজ হয়ে ওঠে। একে সহজ ভাষায় বলা হয় 'প্রফেশনাল ট্রেনিং'। ক্যারিয়ার গঠনে এমন একটি ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ কোর্স গার্মেন্টস বায়িং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং।

বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। ফলে বেড়ে চলেছে গার্মেন্টস, বায়িং হাউজ, ফ্যাশন হাউজসহ পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। পাশাপাশি গার্মেন্টস, বায়িং এবং মার্চেন্ডাইজিং সম্পর্কিত প্রশিক্ষিত লোকের চাহিদাও বাড়ছে ব্যাপক।

শুধু দেশে নয়, বর্তমান বিশ্ববাজারে পোশাক শিল্পের বিপুল চাহিদার কারণে অন্যসব পেশার চেয়ে এ পেশায় চাকরি পাওয়াটা বেশ সহজও বটে। একেকটি পোশাক শিল্প এবং বায়িং হাউজে প্রচুর পরিমাণে দক্ষ লোক নিয়োগ করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পেশাদারদের উচ্চ বেতনসম্পন্ন কর্মসংস্থান সুবিধা রয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে এ পেশার ব্যাপক দক্ষ জনবল চাহিদার কারণে আমাদের দেশেই গড়ে উঠেছে বেশ কিছু শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান।

আজকাল পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলো দেখলেই বুঝা যায়, প্রায় প্রতিটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জনশক্তির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। আর যেহেতু পেশাকশিল্পের এ পেশাটি সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল, কাজ তাই এ সেক্টরে প্রশিক্ষণব্যতীত চাকরি পাওয়াটা বেশ দুষ্কর। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকরি পাওয়ার ভিত্তি শক্ত করাটাই হবে তরুণদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। গার্মেন্টস শিল্পে ক্যারিয়ার সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে পারবেন ০১৭৩১২২০০৯৯ , ০১৯৭১০০৯৯৯৯ নম্বরে ফোন করে।

বাংলাদেশে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস, বায়িং হাউজ বা মার্চেন্ডাইজিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম ন্যাশনাল ইনস্টিটিউিট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (এনআইএফটি)। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত এই প্রতিষ্ঠানে গার্মেন্টস, বায়িং হাউজ, মার্চেন্ডাইজিংসংশ্লিষ্ট সব কিছুই শেখানো হয়। এখানে রয়েছে এ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোর্স। এসব কোর্সের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় হচ্ছে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট, বায়িং পলিসি, ইন্ডেটিং, ব্যাংক, কাস্টমস, ডিইডিও, ইপিবি, বিজিএমআই, শিপিং, এলসি, ডক্যুমেন্টশন, করেস্পন্ডেন্টস, জিএসপি, কোটা, টোটাল গার্মেন্টস প্রোডাকশন (ওভেন, নিট, স্যুয়েটার), কোয়ালিটি কন্ট্রোলিং ফ্রেবিক্স, অ্যাকসেসরিজ, টেক্সটাইল, ল্যাব টেস্ট, কস্টিং, মার্চেন্ডাইজিং প্রোডাক্যশন প্ল্যানিং, মার্কেটিং এবং ই-মেইল , ইন্টারনেটসহ পোশাকশিল্পের আনুষঙ্গিক সবকিছু।

বাংলাদেশে প্রায় ১০ হাজার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। বৃহত্ এই শিল্পটিতে প্রায় ৫০ লাখ লোক বিভিন্ন পদে চাকরি করছে। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আরও অনেক প্রতিষ্ঠানই রয়েছে। গার্মেন্টস, বায়িং এবং মার্চেন্ডাইজিং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাবেন। জেনারেল ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজার, প্রোডাকশন ম্যানেজার, ফ্লোর ইনচার্জ, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, কোয়ালিটি কো-অর্ডিনেট, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, কমার্শিয়াল ম্যানেজার, অ্যাসিসটেন্ট প্রোডকশন ম্যানেজার, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার, প্রভৃতি পদ উন্মুক্ত রয়েছে তাদের জন্য। এ শিল্প বা পেশাকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা প্রশাসনিক পর্যায়ে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি রয়েছে ওভারটাইম এবং অন্যান্য আরও সুবিধা।

এনআইএফটিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শর্টকোর্স। পাশাপাশি অনার্স, এমবিএ এবং উচ্চতর আরও ডিগ্রিও রয়েছে। এখানে রয়েছে দরিদ্র, মেধাবীদের জন্য স্কলারশিপ সুবিধা। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, খেলোয়াড়, প্রতিবন্ধী কোটাও রয়েছে। যোগাযোগ :১৪৬, ওয়ারলেস গেট, মহাখালী, ঢাকা।

Source: www.ittefaq.com.bd


Related All Post:


পোশাক শিল্পে চাকরির সুযোগ




Related All Subject (Many post in one subject): 

Tuesday, March 12, 2013

সংকটে পোশাকশিল্প, ২ হাজার কোটি টাকার স্টক লট নিজস্ব প্রতিবেদক:

সংকটে পোশাকশিল্প, ২ হাজার কোটি টাকার স্টক লট 
-নিজস্ব প্রতিবেদক:




পোশাকশিল্প এখন এক ক্রান্তিকাল পার করছে। একের পর এক হরতালে এই খাতটি দারুণ সংকটে পড়েছে। গত কয়েকদিনের হরতালে পোশাকশিল্প খাতে স্টক লট হয়েছে হাজার কোটি টাকা। বিরোধী দলের এই ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি শিল্পের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

দেশে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বাজার অন্য দেশে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
তাজরীন ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকা-ে শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ার পর থেকেই বিদেশি ক্রেতারা এদেশের পোশাকশিল্পে বিনিয়োগের ব্যাপারে নতুন করে ভাবছেন। এই অবস্থায় সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতায় একের পর এক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাকে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে নেতিবাচক করে তুলছে। একের পর এক অর্ডার বাতিল হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সময়মতো পোশাক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করা যাচ্ছে না। ফলে বিলম্বিত হচ্ছে পোশাক রপ্তানি। এতে অনেক শিপমেন্ট বাতিল হয়েছে। গত কয়েক দিনের হরতালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার তৈরি পোশাকের স্টক লট হয়েছে বলে জানায় বিজিএমইএ সূত্র। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাকশিল্প কারখানার মালিক বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমার কারখানার একটি অর্ডার সাপ্লাইয়ের কথা ছিলো। হরতালের কারণে উৎপাদনে সময় বেশি লেগেছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদন কাজসহ শিপমেন্ট সম্পর্কিত অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পারিনি। এতে অর্ডার বাতিল হয়েছে। সাড়ে চার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হওয়ার কথা ছিলো, যা এখন স্টক লটে পরিণত হয়েছে। এখন এসব পণ্য খোলা বাজারে ৮০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে হবে। কিভাবে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করবো আর কিভাবে কারখানা টিকিয়ে রাখব সে চিন্তায় মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।”
তবে হরতালে চট্টগ্রাম স্থল বন্দরের কাজে তেমন কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বন্দরের সচিব ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, হরতালে বন্দরে মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। আর কোনো শিপমেন্টও বাতিল হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৬শ’ কন্টেইনার ওঠানামা করলেও হরতালে তা কমে আসে। হরতালের দিনগুলোতে গড়ে প্রায় ১২শ’ কন্টেইনার ওঠানামা করে।
স্টক লটের বিষয়ে বিজিএমইএ-এর কাছে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই বলে জানায় বিজিএমইএ।
বিজিএমইএ-এর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, “এটি পোশাক শিল্পের জন্য আত্মঘাতী হওয়ার পূর্ব সংকেত। এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি নির্ভর হওয়ায় হরতাল হলেই আমদানিতে সমস্যা হয়। অন্যদিকে হাইরিস্কের কারণে শিপমেন্ট ঠিক মতো করতে পারে না মালিকরা। ফলে ক্রেতারা আমাদের ওপর থেকে আস্থা হারাতে বসেছে।”
আর যখন শিপমেন্ট ঠিক সময়ে না করতে পারে তখন সে পণ্য স্টক লট হয়, যা এ শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ স্টক লট হওয়া পণ্য ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুণতে হয় মালিকদের। একদিনের হরতালে ব্যবসা-বাণিজ্যে তিন হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়। এসব হরতাল দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ দেশের অর্থনীতি। সম্প্রতি অস্থিরতার কারণে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছে না। এতে অনেক অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি।
বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতি (ইএবি) সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, “স্টক লট পোশাকশিল্পের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি খুব সাধারণ ভাবেই বোঝা যায় যে, মালিকরা বিনিয়োগ করে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না। ফলে আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর স্টক লট বিক্রি করে যা আয় হয় তা খুবই নগণ্য। কোন রকম বিক্রির জন্যই তা বিক্রি করা হয়। এটি এ শিল্পের এগিয়ে যাওয়ার পথে একটি অশনি সংকেত। আর সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্হি:বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আর আমাদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে কিনা, তা যদি পুনর্বিবেচনা করে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।”

Monday, January 14, 2013

মিনি গার্মেন্টস: ফেলনা কাপড়ে পোশাক তৈরি

মিনি গার্মেন্টস: ফেলনা কাপড়ে পোশাক তৈরি


গার্মেন্টসের ফেলে দেয়া টুকরো কাপড় (ঝুট) ফেলনা নয়। টুকরো কাপড় দিয়ে তৈরি করা যায় রকমারি পোশাক। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে মিনি গার্মেন্টস। ছোট ছোট এসব কারখানায় মূলতঃ শিশুদের পোশাকই তৈরি করা হয়।
লালমনিরহাটেও এমন একটি কারখানা গড়ে উঠেছে যেখানে শুধু শিশুদের পোশাকই নয়, তৈরি করা হচ্ছে এক ধরণের কম্বল, যা শীতকালে স্বল্প আয়ের মানুষদের ভরসা হয়ে উঠেছে। আর এ কারখানায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বেশ কিছু অসহায় দরিদ্র নারীর।
লালমনিরহাটের পৌর মার্কেটে যিনি এ অঞ্চলের প্রথম ও একমাত্র মিনি গার্মেন্টসটি গড়ে তুলেছেন তার নাম আতাউর রহমান। তার পেশাগত জীবন কেটেছে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে । তবে বর্তমানে যা করছেন তাতেই তিনি স্থিতি হতে চান। সেই সঙ্গে দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদান ও স্বল্প আয়ের মানুষদের মধ্যে কম মূল্যে কম্বল ও শিশুদের পোশাক সরবরাহ করে তৃপ্তি পেতে চান।
আতাউর রহমান জানান, তিনি লালমনিরহাট শহরের জনপ্রিয় একটি টেইলারিং শপে প্রায় এক যুগ কাজ করে উন্নত জীবিকা ও ভাগ্য অন্বেষণে ঢাকায় চলে নিয়েছিলেন। ঢাকায় তিনি ম্যানুয়েল মেশিন দিয়ে এমব্রয়ডারি মাস্টার হিসেবে কাজ করেছেন প্রায় ২০ বছর। শুরুতে বেশ ভালো করলেও মাঝপথে থমকে যেতে হয় তাকে। গার্মেন্টস সেক্টরে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ম্যানুয়েল মেশিনের কাজের চাহিদা কমে যায়। ফলে তার ১২টি এমব্রয়ডারি মেশিন থাকা সত্ত্বেও
সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেননি। কম্পিউটারচালিত এমব্রয়ডারি মেশিন কিনতে যে প্রচুর টাকার প্রয়োজন তাও সংগ্রহ করতে পারছিলেন না। ফলে এ কাজে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে ও খাপ খাওয়াতে না পেরে তিনি ঢাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
তবে দমে যাননি আতাউর বললেন, নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করি। লালমনিরহাটে কোন গার্মেন্টস না থাকায় আমার ১২টি মেশিন দিয়েই ছোটখাট একটা কারখানা গড়ে তুলি।
আতাউর তার প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন ‘মাস্টার বুটিক এন্ড এমব্রয়ডারি সেন্টার’। এখানে বর্তমানে ১১ জন দুস্থ নারী শ্রমিক কাজ করছেন।
কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, নানা রংয়ের টুকরো কাপড় জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শিশুদের জামা, পায়জামাসহ নানা ধরণের পোশাক। তৈরি হওয়ার পর বুঝাই যায় না, রঙ্গিন পোশাকটি গার্মেন্টসের ফেলে দেয়া ছাঁট কাপড় (টুকরো) দিয়ে তৈরি। অন্যদিকে দেখা গেল কম্বল তৈরি হচ্ছে। টুকরো কাপড়ে কম্বল বানানো হলেও তা বুঝার উপায় নেই।
জানা গেছে, এসব টুকরো কাপড় ঢাকা থেকে কেজি হিসেবে কিনে নিয়ে আসা হয়। প্রতি কেজির দাম দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা। এ ছাড়া দোকানে বিক্রির পর থান কাপড়ের পরিত্যক্ত অংশও কিনে আনা হয় পোশাক বা কম্বলে ব্যবহারের জন্য।
এই মিনি গার্মেন্টসের মালিক মো. আতাউর আরো বলেন, এ কাজটি আমি শুধু ব্যবসার জন্যই করছি না। ফেলে দেয়া ঝুট কাপড় থেকে পোশাক বা কম্বল তৈরিতে একটা আনন্দও আছে। আর আমি এসব বিক্রি করছি কমদামে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে। দরিদ্র শিশুরা রঙ্গিন পোশাক পেয়ে আনন্দ পায়। এ ছাড়া এখানে আমি ১১ জন দুস্থ নারীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পেরেছি। আর এখানকার তৈরি পোশাক ফেরিওয়ালারা কিনে নিয়ে হাট-বাজারে বিক্রি করে আয়-উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছে।
এদিকে অল্প দামে এখানকার কম্বল পেয়ে স্বল্প আয়ের মানুষজনও খুশি। এ ধরণের কম্বলের বেশ চাহিদাও রয়েছে। বিশেষ করে শীতার্ত দরিদ্র মানুষেরা এ কম্বল ব্যবহার করে শীত নিবারণের চেষ্টা করেন। এখানকার একজন শ্রমিক জানান, এবারের শীতে ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ হিসেবে দেয়ার জন্য অনেকেই এখান থেকে কম্বল নিয়ে গেছেন।

Friday, January 4, 2013

জয়পুরহাটের উদ্যমী নারী সেলিনা আকতার জিরো থেকে লাখপতি

জয়পুরহাটের উদ্যমী নারী সেলিনা আকতার জিরো থেকে লাখপতি

















জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
১৪ বছর আগের কথা। জয়পুরহাট শহরের শান্তিনগর মহল্লার বাসিন্দা সেলিনা আক্তার, স্বামী মোশাররফ হোসেন। ৯ বছর ও ১ বছর বয়সের দুই পুত্র সন্তান নিয়ে তাদের সংসার। স্বামী দর্জির কাজ করতো। রেলওয়ে হকার্স মার্কেটে ছোট একটি দোকান মোশাররফের। রেললাইনের উপর গড়ে ওঠা পুরাতন কাপড়ের দোকান থেকে শার্ট-প্যান্ট ও শীতের কাপড় কিনে মানুষ তার কাছ থেকে কেটে ছেটে ফিটিং করে নিত। যা আয় হতো তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলতো তাদের সংসার। সন্তানরাও প্রায়ই থাকে অভুক্ত। অভাবের এই সংসারে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। এরই মধ্যে ১৪ বছর আগে আগুন লেগে পুড়ে যায় জয়পুরহাট হকার্স মার্কেটের অধিকাংশ দোকানপাট। তারটিও রক্ষা পায়নি। তার সর্বস্ব পুড়ে যায়। রক্ষা পায়নি তার সেই সেলাই মেশিনটিও। সর্বস্ব হারিয়ে গোটা পরিবার তখন দিশেহারা। এনজিও জাকস ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে শান্তি নগর এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে ঋণ দিতে শুরু করেছে। এটা ১৪ বছর আগের কথা। জাকসের সিনিয়র ঋণ কর্মকর্তা মাসুদা খানম। তখন তিনি ওই ঋণ কর্মকর্তাকে তার দুঃখের সব কথা খুলে বলেন। কিছুদিনের মধ্যে মাসুদা সেলিনার নামে বিশ হাজার টাকার ঋণের ব্যবস্থা করে দেন। সেই টাকা দিয়ে সেলিনা ২টি সেলাই মেশিন কিনে। আর স্বামী মোশাররফকে সঙ্গে নিয়ে ১০ হাজার টাকার গার্মেন্টসের কাটপিস কিনে আনেন সৈয়দপুর থেকে। স্বামী-স্ত্রী মিলে দু'জনে নব উদ্যমে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে ট্রাউজার তৈরির কাজ শুরু করে। প্রতিদিন তারা দু'জনে ১০০ পিস ট্রাউজার তৈরি করে। আর সেই ট্রাউজারগুলো জয়পুরহাটের মার্কেটে পাইকারি বেচা শুরু করে। তাদের নিপুণ হাতের তৈরি ট্রাউজার বাজারে কদর বাড়তে থাকে। প্রতিদিন তা থেকে তাদের আয় হয় প্রায় ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার দুইশ টাকা। মালের চাহিদা বেড়ে যায়। তখন তারা প্রতিবেশী হতদরিদ্র ৫জন মহিলাকে কাপড় সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেন। তখন সেলিনা ও তার স্বামী মোশাররফ শুধু কাপড় কাটে আর ওই ৫জন নারী ট্রাউজার সেলাই করে। এভাবে তাদের কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। এক বছরের মধ্যে ঋণের ওই টাকা পরিশোধ করে তারা জাকস ফাউন্ডেশন থেকে অরো ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেয়। সেই টাকা দিয়ে ১০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের ১০টি সেলাই মেশিন কিনে দেয়। এভাবে বাড়তে থাকে তাদের ব্যবসার আরো পরিধি। তার প্রতিষ্ঠানের নাম দেয় সৈকত গার্মেন্টস।
এখন তাদের গার্মেন্টসে মোট ৪৫ জন শ্রমিক কাজ করে। এদের মধে ৪১জনই নারী ও ৪জন পুরুষ শ্রমিক। ৪১জন প্রশিক্ষিত নারী শ্রমিক ট্রাউজার শেলাইয়ের কাজ করে। আর ৪জন পুরুষ শ্রমিক কাপড় কাটার কাজ করে। বাকি ৩১জন নারী শ্রমিককে জাকস ফাউন্ডেশন সেলাই মেশিন কেনার জন্য ঋণ দেয়। এই ৪১ জন নারী শ্রমিকের প্রত্যেকের বাড়িতেই এখন সেলাই মেশিন রয়েছে। 
সেলিনা আক্তার জানান, তার নামে এখন জাকস তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছে। তার ক্যাশ প্রায় সাত লাখ টাকা। তাদের ট্রাউজার এখন জয়পুরহাট, নওগাঁ, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, রংপুর, ঢাকা, সিলেট, চিটাগাংসহ দেশের প্রায় সব জায়গাতেই যায়। সেলিনার স্বামী এখন শুধু মার্কেটিং করে। আর সেলিনা তার প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করে। আর তার বড় ছেলে বাবা ও মার কাজে সাহায্য করে। তাদের দেখাদেখি ওই এলাকায় এখন এরূপ ৮টি মিনি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি তৈরি হয়েছে। ওই এলাকার অধিকাংশ বাড়িতেই এখন সেলাই মেশিন রয়েছে। তারা ট্রাউজার সেলাই করে এখন স্বাবলম্বী। তাদের এখন আর অভাব নাই। সেলিনা আকতারের পাশের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সিমা বেগম (৪০) ও তার দুই মেয়ে প্রীতি পারভীন (১৮) ও চৈতি আকতার (১৬) তিনটি মেশিনে তারা ট্রাউজার সেলাইয়ে ব্যস্ত। মা সিমা বেগম জানায়, তার স্বামী অসুস্থ, শয্যাশায়ী। কোন কাজ করতে পারে না। তাই তাদের খুব অভাবের মধ্যে দিন কেটেছে। সেলাইয়ের কাজ শিখে তিনি সাংসারিক কাজের পাশাপাশি ও তার দুই মেয়ে লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে ট্রাউজার সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। এখন প্রতিদিন তারা তিনজন মিলে ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাউজার সেলাই করতে পারে। প্রতিটি ট্রাউজার শেলাই বাবদ তারা ৭ টাকা করে মজুরি পায়। এ থেকে তাদের প্রতিদিন ৩৫০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা আয় হয়। এতে করে তাদের লেখাপড়া খরচ ও সংসার ভালভাবেই চলে। এভাবে ওই এলাকার সবাই এখন স্বাবলম্বী। 
জাকসের কো-অর্ডিনেটর মাইক্রো ফাইন্যান্স আফতাব আলী জানান, ওই এলাকায় সেলাই কজের জন্য তারা প্রায় দেড় শত পরিবারের মধ্যে ১ কোটি ১৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে। যারা ঋণ নিয়েছেন তাদের প্রায় সবাই এখন স্বাবলম্বী। তারা নিয়মিত ঋণ নেয় ও সময়মত তা পরিশোধও করেন। শান্তিনগরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জেলা মৎস্য সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, এক সময় ওই এলাকার অধিকাংশই ছিল হতদরিদ্র। কিন্তু জাকস ফাউন্ডেশনের ঋণের টাকায় এখন ঘরে ঘরে সেলাই মেশিন আর ট্রাউজার সেলাই করে এই এলাকার নারীরা এখন স্বাবলম্বী। ওই এলাকা এখন জয়পুরহাটের মডেল। একজন উদ্যমী নারী সেলিনা আকতার পাল্টে দিয়েছে ওই এলাকার চিত্র। নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন অন্যদেরও করেছেন স্বাবলম্বী। পাশাপাশি ওই এলাকাকে করেছেন আলোকিত।